মায়ের দেয়া ওষুধের জন্য ২০০৩ এ নিষিদ্ধ হন ওয়ার্ন

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:১৮ পিএম

রবিবার ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অজি দলের লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার হতশ্রী বোলিংয়ে মনে পড়ে যাবার কথা এক কিংবদন্তির কথা। শেন ওয়ার্ন, তার লেগ স্পিনের ভেলকিতে কত ব্যাটসম্যানের সাড়ে সর্বনাশ করেছেন ইয়ত্তা নেই। ১৯৯৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে একাই ধ্বংস করে দিয়েছিলেন পাকিস্তানকে। ২৮ বছরের তরুণ ওয়ার্নের কৃতিত্বে সেবার বিশ্বকাপ ট্রফিটি পুনরুদ্ধার করে অস্ট্রেলিয়া।

চার বছরের পরিক্রমায় আরো ক্ষুরধার ওয়ার্ন প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আরেকটি বিশ্বকাপ মাতাতে। অথচ ড্রাগ টেস্টে পজেটিভ প্রমাণ হওয়ায় অজি দল থেকে বাদ পড়েন এই কিংবদন্তি। ওই ঘটনায় নিষিদ্ধ হয়েছিলেন এক বছরের জন্য।

কুইন্সল্যান্ডের বিচারক গ্লেন উইলিয়ামকে প্রধান করে তিন সদস্যের প্যানেল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ড্রাগ কোড পরিপন্থী ওষুধ সেবনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন শেন ওয়ার্নকে। ওই সময় শেন ওয়ার্ন জোর গলায় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, আমি ক্যারিয়ারের পুরো সময়জুড়ে কখনোই এমনকি এবারও পারফরম্যান্স বর্ধক কোনো ওষুধ সেবন করিনি। অথচ মায়ের দেয়া চিকিৎসকের পরামর্শমাফিক একটি ওষুধ সেবনের কারণেই খড়্গ নেমে আসে ওয়ার্নের উপরে।

শেন ওয়ার্নের মা ব্রিগিট ওয়ার্ন মডুরেটিক নামের ওষুধ খেতে দেন সন্তানকে। যা শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। প্রচুর পরিমাণে ওয়াইন সেবনের কারণে ডাবল চিন হয়ে গিয়েছিল তার। ফিটনেস প্রোগ্রামের অধীনে থাকা ৩৩ বছর বয়সী ওয়ার্নকে তার চিকিৎসকই এই ওষুধ খাবার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ওয়ার্নের শরীরে ডাইয়ুরেটিকস হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড এবং অ্যামিলোরাইডের উপস্থিতির কারণে নিষেধাজ্ঞা আসে। সাধারণত পারফরম্যান্স বর্ধক ওষুধে এই উপাদান পাওয়া যায়। ওই নিষেধাজ্ঞার কারণে আর কখনোই বিশ্বকাপে অংশ নেয়া হয়নি শেন ওয়ার্নের। তবে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষ করে স্বমহিমায় ফিরে এসেছিলেন সবুজ মাঠে। ঘুর্ণিজাদুতে একের পর এক ব্যাটসম্যানকে দিশেহারা করে অক্ষয় হয়ে আছেন ক্রিকেটভক্তদের হৃদয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত