চট্টগ্রাম ফিরুক ধর্মশালায়

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৩, ১০:১৫ এএম

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানো হয়েছে দুইবার। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে? বিশ্বকাপে না, কিন্তু ঘরের মাঠে তো ঠিকই হারিয়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে ওয়ানডের বিশ্বজয়ী ইংল্যান্ডকে আর টি-টোয়েন্টির বিশ্বজয়ী ইংল্যান্ডকে ঠিকই হারাতে পেরেছে বাংলাদেশ। ২০১১ সালে হারিয়েছে বিশ্বকাপেও আর ২০১৬ সালে চট্টগ্রামেই ইংল্যান্ডের আভিজাত্য ভেঙে দিয়ে বাংলাদেশ তাদের হারায় টেস্ট ম্যাচে। যে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এত সুখস্মৃতি, ধর্মশালায় ফিরুক না সেই চট্টগ্রাম। মিলেমিশে যাক হিমালয় আর বঙ্গোপসাগর!

এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই ভারতীয় গণমাধ্যমে চলছে ফিরিয়ে আনার বন্দনা। ২০১১ সালে দেশের মাটিতে বিশ^কাপ জিতে যে চক্র শুরু করেছিল ভারত, ২০১৫-তে অস্ট্রেলিয়া আর ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড অক্ষুন্ন রেখেছে সেই চক্র। তাই তো মহেন্দ্র সিং ধোনিও বিজ্ঞাপনের আড়ালে শুনিয়ে যাচ্ছেন, যা ঘটবেই তা নিয়ে কথা বলে যেন কেউ নজর না লাগায়! আহমেদাবাদে রোহিত শর্মার হাতে কাপ ওঠাটা স্রেফ সময়ের ব্যাপার, এই যখন বিশ্বকাপ প্রচারণার ভাষা, তখন চট্টগ্রামের ধর্মশালায় ফিরতে বাধা কোথায়?

২০১১ সালে উপমহাদেশে সবশেষ বিশ্বকাপ, সেখানে তো চট্টগ্রামেই ইংল্যান্ডকে হারানোর সুখস্মৃতি। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে অ্যাডিলেডে হারানোটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা সুখস্মৃতি আর ইংল্যান্ডের শোক। সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করেই না ২০১৯ সালে বিশ্বকাপটা জিতল ইংল্যান্ড, বদলে দিল ওয়ানডে খেলার ধরনই আর সেই ধারাবাহিকতায় টেস্টেও খেলছে ‘বাজবল’।

ধারাভাষ্যকার হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে কাজ করছেন এউইন মরগান, ইংল্যান্ডকে ২০১৯ বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক। ২০১৫ সালে অ্যাডিলেডের সংবাদ সম্মেলন কক্ষেও ছিলেন তিনি, হজম করেছিলেন সব বাক্যবাণ।

কাল মাঠে এসে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বলেছেন, ‘আমি ওই ম্যাচের হাইলাইটসও দেখিনি।’

টিভিতে না দেখলেও মনের পর্দায় নিশ্চয়ই দেখেছেন বারবার। ২০১৫, ২০১৯ হয়ে ২০২৩ সালে জস বাটলার এবার ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে সুখস্মৃতি আর হারের দুঃসহ স্মৃতি দুই-ই পরখ করেছেন। চলতি বছরের গোড়ায় বাংলাদেশ সফরে এসে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছেন আবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছেন। বাংলাদেশের শক্তি-সামর্থ্য সবই তার জানা।

মৃদুভাষী বাটলারের কণ্ঠে তাই বাড়তি উত্তেজনা নেই, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের দারুণ কিছু ম্যাচ হয়েছে। আমরা প্রতিটি প্রতিপক্ষকেই সম্মান করি, বিশ^কাপে এলে প্রতিটি প্রতিপক্ষই কঠিন আর প্রতিটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।’

ধর্মশালায় আগের ম্যাচটা জিতেছে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড আহমেদাবাদে শুরু করেছে নিউজিল্যান্ডের কাছে বাজেভাবে হেরে।

ঘুরে দাঁড়ানো, প্রতিশোধ এমন অনেক শব্দ চেষ্টা করেও বের করা গেল না বাটলারের মুখ থেকে, ‘দুটো দলই মাত্র একটা করে ম্যাচ খেলেছে। দল হিসেবে এখনো আমরা অনেক আত্মবিশ্বাসী। আমরা জানি, আমরা আগের ম্যাচে যেমন খেলেছি তার চেয়ে ভালো দল আর আমরা আগামীকাল (আজ) ভালো খেলার ব্যপারে আশাবাদী।’

বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন রঙ্গনা হেরাথ। শ্রীলঙ্কার সাবেক এই স্পিনার আছেন স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্বে। এই নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে তাকে যেটা করতে হয়, যখন কেউ গণমাধ্যমে কথা বলতে চান না, তখন তাকে মাইকের সামনে আসতে হয়। ম্যাচের আগে খেলোয়াড়রা কেউই যে আসতে চান না, বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান তানভীর আহমেদ টিটুর কথায় আগের দিন সেই আভাষই মিলেছে। হেরাথ বলেছেন গৎবাঁধা পোশাকি কথাবার্তা। নিজেদের ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলতে হবে, ভালো খেলে জিততে হবে এসব।

অন্যদিকে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে উত্তেজনা আউটফিল্ড নিয়ে। বাটলার বলেছেন, এই আউটফিল্ড ‘পুওর’। তিনি আইপিএল খেলার সময় মাঠ এমন ছিল না। হেরাথ বিতর্ক বাড়াতে চাননি। বলেছেন, ঠিকই আছে এই আউটফিল্ড। আগের ম্যাচের পর মেহেদী হাসান মিরাজ তো বলেই গেছেন, বিশ্বকাপে এসে অজুহাত দেওয়া চলে না।

বাংলাদেশ দলে পরিবর্তনের আভাস। মাহমুদউল্লাহর বদলে শেখ মেহেদি অথবা নাসুম আহমেদকে একাদশে দেখা যেতে পারে। বোলিং শক্তিটা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ, খুব সম্ভবত পাওয়ার প্লেতে একজন স্পিনারকে একপ্রান্তে চাইছেন সাকিব। লিটন দাসকে ইনিংসের শুরুর বদলে মাঝে, অর্থাৎ মিডল অর্ডারে যখন বলটা একটু পুরাতন হয় তখন খেলানোর সম্ভাবনা শোনা যাচ্ছে। তখন শুরুতে নামবেন মেহেদী মিরাজ ও তানজিদ তামিম।

মুখে বাটলার যতই মিষ্টভাষী হন না কেন, মাঠে যে ছাড় দেন না একবিন্দু, সে প্রমাণ তো পেয়েছে বাংলাদেশ। আহত সিংহ যে মরণকামড় দেবে, সেটা জানা কথা। বাংলাদেশও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সম্মান দেখিয়ে রাস্তা ছেড়ে দাঁড়ানোর দল নয়। লড়াইটা তাই জমে যাওয়ারই কথা। সেই লড়াই যেন ঠিকঠাক জমে, সে জন্য মাঠকর্মীরা খাটছেন অক্লান্তভাবে। ভারতের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রীর নিজের এলাকার স্টেডিয়ামের মাঠ খারাপ, অপবাদটা যে ভালো শোনায় না!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত