সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার বড়ধূল ইউনিয়নের দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলতি বন্যায় যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
বিলীন হয়ে যাওয়ার পর টিনের ছাপড়া তুলে চলছে পাঠদান। ফলে রোদে গরমের উত্তাপে শিক্ষার্থীদের নাভিশ্বাস উঠে যায়, আর বৃষ্টি এলে ভিজে যায় বই খাতা। বারবার ঘাম আর বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
বিলীন বিদ্যালয় দুটি হল-মেহেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ক্ষিদ্রচাপড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ দুটি বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭৪ জন। এরমধ্যে ক্ষিদ্রচাপড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০৭ জন ও মেহেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৬৭ জন।
ফলে এ বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে আসে না। ফলে তারা ঝড়ে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। স্কুল থেকে ঝড়ে পড়া রোধে টিনের ছাপড়ায় ক্লাস চালানো হলেও বৃষ্টিতে তা বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা জানায়, যমুনা নদীতে স্কুল ভবন ভেঙে যাওয়ার পর তাদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। পরে টিনের ছাপড়ায় ক্লাস চালু করা হলেও এখানে পড়ালেখার পরিবেশ নেই। খোলা মাঠের মধ্যের এ টিনের ছাপড়ায় রোদে প্রচণ্ড গরমে ঘেমে সর্দি-জ্বর হয়। আবার বৃষ্টিতে বই খাতা ভিজে যায়। সেই সাথে আমরাও ভিজে গিয়ে,জ্বর ,সর্দি ও কাশি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। ফলে অনেকেই আর স্কুলে আসতে পারে না।
কয়েকজন অভিভাবকর জানান, আমাদের ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার জন্য যে ধরনের পরিবেশ থাকা দরকার তা এখানে নেই। প্রধান শিক্ষক টিনের ছাপড়া তুলে ৮ থেকে ১০ জন ছেলে মেয়ে নিয়ে বসে থাকেন। এভাবে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলতে পারে না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের এলাকার ছেলে মেয়েরা প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে।
মেহেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি জিন্নাহ মোল্লা বলেন, স্কুল দুটি যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়। তারা এ ছাপড়া তুলে ক্লাস চালুর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু এতে সমস্যা দূর হচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে স্কুল ভবন নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে মেহেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীতে স্কুলটি বিলীন হওয়ার পর খোলা মাঠে টিনের ছাপড়া তুলে কোনো মতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রেখেছি। কিন্তু শিক্ষার জন্য যে পরিবেশ থাকা দরকার তা এখানে না থাকায় শিক্ষার্থীদের আমরা ধরে রাখতে পারছি না। এ জন্য অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসছে না।
বেলকুচি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে ঝড়ে না পরে সে জন্য অস্থায়ীভাবে টিনের ছাপড়া তুলে শিক্ষকদের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে বলেছি। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী মাসের মধ্যে শিক্ষা অধিদপ্তরের এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি প্রকল্প থেকে এ দুটি বিদ্যালয়কে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে। এ টাকা হাতে পাওয়া গেলে দ্রæত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হবে। তখন আর এ সমস্যা থাকবে না।
