অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে ইসিকেও প্রশ্ন

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:০১ এএম

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে জয়ী প্রার্থীদের ফল ঘোষণা পর্যন্ত সার্বিক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে জানতে চেয়েছে বাংলাদেশে সফররত মার্কিন প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার কত, ভোটার তালিকা, রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে আনার বিষয়ে ইসির আইনে কী আছে, নির্বাচনকালীন সরকারের সময় ইসি কীভাবে সমন্বয় করে কাজ করে সেই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছে দলটি।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে মার্কিন প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেও মার্কিন প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের কোনো সদস্য কথা বলেননি। সফর শেষ হলে নির্বাচনের আগের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আসা যুক্তরাষ্ট্রের এই দলটির তরফ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচন আয়োজন বিষয়ে তাদের যদি কোনো উদ্বেগ থাকে, তা জানানোর পাশাপাশি সুপারিশ থাকলে সেটিও তারা জানাবে।

ইসির সূত্রগুলো বলছে, রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে আনার বিষয়ে ইসির কোনো উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ আইনে রয়েছে কি না, ইসির আইনে কী বলা রয়েছে সেটা জানতে চেয়েছে দলটি। রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে আনার বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বা দলগুলোকে নির্বাচনে আনার বিষয়ে আশ^স্ত করার চেষ্টা করতে হবে এমন কোনো পরামর্শ নিয়ে আলোচনা হয়নি।

জানা গেছে, ইসির পক্ষ থেকে সর্বশেষ গণশুমারি, ভোটারদের ছবিসহ তালিকা ইত্যাদি দলটিকে সরবরাহ করা হয়েছে। ইসির একটি সূত্র বলছে, সফরকারীরা মূলত নির্বাচনের আগের পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং এ অবস্থায় ইসির প্রস্তুতি ও করণীয় বুঝতে চেয়েছেন। তারা পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টার পাশাপাশি আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য ভোটকেন্দ্র, পর্যবেক্ষক পাঠাতে হলে করণীয় বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। এর বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের মতো কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে চেয়েছে।

যদিও বৈঠকের পর সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইসির কাছে জানতে চেয়েছে মার্কিন প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল। বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয় ছিল অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনে ইসি কী ভূমিকা পালন করে, সরকারের ভূমিকা কতটুকু, কীভাবে সেই ভূমিকা পালন করে, সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সমন্বয় এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া তাদের জানানো হয়েছে।

সিইসি বলেন, ‘তারা যা যা জানতে চেয়েছেন, জেনেছেন। জেনে এখন তারা কী করবেন আমরা জানি না।’ তিনি বলেন, তারা দেশে ফিরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষক পাঠাবে কি না।

সিইসি জানান, এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা দলটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। দলটি এখানে এসেছে মূলত নির্বাচনের আগের পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য।

আলোচনার মূল বিষয় কী ছিল জানতে চাইলে কাজী হাবিবুল আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, ‘মূল ফোকাসটা হচ্ছে ফ্রি (অবাধ), ফেয়ার (সুষ্ঠু), পার্টিসিপেটরি (অংশগ্রহণমূলক) ও পিসফুল ইলেকশন (শান্তিপূর্ণ নির্বাচন)। আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। এ নির্বাচন ঘিরে বিবদমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি পর্যবেক্ষক দলও এসেছিল। তারা ইতিমধ্যে বাজেট স্বল্পতার কারণে নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক না পাঠানোর বিষয়টি জানিয়েছে।

বৈঠকে সিইসি, অন্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। এর আগে শনিবার ঢাকায় পৌঁছে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় সদস্যের এই দলটি। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে অবস্থান করবে। ইতিমধ্যে দলটি আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈঠক করেছে। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজ, নারী সমাজ, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং ঢাকার বিদেশি মিশনের কূটনীতিকদের সঙ্গেও তাদের বসার কথা রয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলে রয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট-আইআরআই ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট-এনডিআইয়ের প্রতিনিধিরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত