আগামী শনি ও রবিবার মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ এন ছিদ্দিক। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডে কোম্পানির দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়টি জানান।
ডিএমটিসিএল এমডি বলেন, এমআরটি লাইন-৬-এর উত্তরা থেকে আগারগাঁও এবং আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশ একীভূত করার (সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন) জন্য দুদিন উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক চলাচল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি সাপ্তাহিক বন্ধের অংশ হিসেবে শুক্রবারও মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকবে। এজন্য মেট্রোরেলে যাতায়াতকারী যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এম এ এন ছিদ্দিক জানান, আগামী সোমবার থেকে আগের সময়সূচি অনুযায়ী উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে মেট্রোরেল চলাচল করবে।
তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেলের উদ্বোধনের নির্ধারিত তারিখ কবে সে ব্যাপারে অফিশিয়ালভাবে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু জানতে পারেনি। তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি তারিখের ব্যাপারে (২৯ অক্টোবর) বলা হয়েছে। সেটা আপনারা সবাই জানেন।’
ডিএমটিসিএল এমডি বলেন, ‘যেদিনই মতিঝিল অংশের মেট্রোরেল চালু হোক না কেন; প্রথম তিন মাস শুধু সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলাচল করবে। উত্তরা থেকে যাত্রীরা সরাসরি মতিঝিলে যেতে পারবেন। আর ১১টার পর থেকে মেট্রোরেল উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচল করবে। পরীক্ষামূলক খ-কালীন সময়ে মেট্রোরেল চলাচলের এ সময় সর্বোচ্চ তিন মাস হবে। এরই মধ্যে উত্তরা-আগারগাঁও এবং আগারগাঁও-মতিঝিল অংশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং বাকি কাজ শেষ হওয়া সাপেক্ষে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলাচল করবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, মেট্রোরেলের সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হলে চলাচলের সময় বাড়ানো হবে। তখন সাপ্তাহিক ছুটিও থাকবে না। সপ্তাহের সবদিন মেট্রোরেল চলাচল করবে। আগারগাঁও-মতিঝিল অংশে সাতটি স্টেশন রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনটি অর্থাৎ, ফার্মগেট, সচিবালয় ও মতিঝিল অংশ চালু করা হবে। এরপর ১৫ দিনের মধ্যে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় স্টেশন চালু করা হবে। কেননা, ইতিমধ্যে ওই স্টেশনের ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি স্টেশনগুলো পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে মেট্রোরেল চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের পর গন্তব্যে চলাচল করছে। বৈদ্যুতিক সমস্যার কারণে এমন হচ্ছে। সেসব বিষয় নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে তদন্ত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
যাত্রী চলাচল সম্পর্কে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের এমডি বলেন, কর্মব্যস্ত দিনে গড়ে ৯০ হাজার যাত্রী চলাচল করছে। আর শনিবারে এক লাখের বেশি যাত্রী চলাচল করছে। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ মেট্রোরেলে চড়ার জন্য ঢাকায় আসে। এজন্য এদিন মানুষের চাপ কিছুটা বেশি থাকে।
