ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশালে বাসের চাপায় ছয়জন গার্মেন্টসকর্মী নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল বুধবার সকালে চেলেরঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
অন্যদিকে মানিকগঞ্জে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় লেগুনা খাদে পড়ে প্রাণ গেছে চারজনের। আহত হয়েছেন লেগুনার আরও দুই যাত্রী। গতকাল সকালে সদর উপজেলার ভাটবাউর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক দুর্ঘটনায় আরও চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ত্রিশালের দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে চারজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন একই উপজেলার হদ্দেরভিটা গ্রামের আতিকুল ইসলামের মেয়ে জেসমিন আক্তার (৩০), নওপাড়া তালুকদার বাড়ির আব্দুল মোতালেবের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (২৮), ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চুরখাই জামতলী গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে কামরুজ্জামান লিটন (২৮) এবং গন্ডখোলা গ্রামের সোহেল মিয়া (৩২)।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, চেলেরঘাট এলাকায় সকাল ৮টার দিকে শেরপুর থেকে ঢাকাগামী এসএস ট্রাভেলসের একটি বাসের চাকা পাংচার হয়ে যায়। তখন যাত্রীরা বাস থেকে নেমে অন্য বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। একই সময়ে লাবিব গার্মেন্টসের পোশাককর্মীরাও সেখানে বাসের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছন থেকে রাসেল স্পিনিং মিলের ‘রাব্বী-সেতু পরিবহন’ নামে একটি বাস দ্রুতগতিতে রাস্তায় অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ওপর উঠিয়ে দেন। এতে বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের মধ্যে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
ত্রিশাল থানার ওসি মোমাইন উদ্দিন জানান, রাব্বী-সেতু পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়েছে। বাসটির চালক দুর্ঘটনার পর পালিয়ে গেলেও পরে সন্ধ্যায় তাকে ত্রিশালের বাগান এলাকা থেকে আটক করে ত্রিশাল থানা পুলিশ। তার বাড়ি একই উপজেলার সাখুয়া ইউনিয়নের নওপাড়া এলাকায়। এই চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মানিকগঞ্জে লেগুনা খাদে পড়ে নিহতরা হলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পাথরাইল কুড়িপাড়া গ্রামের মৃত পরেশ চন্দ্রের ছেলে মহাদেব চন্দ্র (৫০), বাগজান গ্রামের আব্দুস সালামের স্ত্রী হেনা আক্তার (৫০), একই গ্রামের মনসুর আলীর স্ত্রী মালেকা বেগম এবং ভাটবাউর গ্রামের মোতালেবের ছেলে লেগুনাচালক মো. জাহিদ হাসান (৩৩)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আরিচা থেকে নয়জন যাত্রী নিয়ে লেগুনাটি মানিকগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। পথে ভাটবাউর এলাকায় লেগুনা থেকে তিনজন যাত্রী নেমে যায়। এ সময় পেছন থেকে আকিজ টেক্সটাইলের একটি স্টাফ বাস লেগুনার ডান পাশে ধাক্কা দেয়। এতে লেগুনাটি রাস্তার পাশের খাদের পানিতে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই লেগুনাচালক জাহিদ হোসেনসহ চারজন নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় ঘিওর উপজেলার তরা এলাকার নাসির হোসেন ও সদর উপজেলার আটিগ্রাম এলাকার মুসা নামে দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন। এদের মধ্যে নাসির জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অন্যদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় মুসাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, তাদের মানিকগঞ্জ ও আরিচার দুটি ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে পানিতে পড়ে যাওয়া লেগুনা থেকে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। তাদের ডুবুরিরা দুই ঘণ্টা চেষ্টা করে আর কোনো মরদেহ পায়নি।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সড়কের ওপর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সকাল ৮টার দিকে পিএবি সড়কের ঝিওরী মাজার গেট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে ধারণা পুলিশের। তার মাথা গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে থেঁতলে গেছে। গভীর রাত বা ভোরের কোনো এক সময় এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
দিনাজপুরে খালা চম্পা রানী রায়ের মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছে পাঁচ বছরের শিশু জয় ও তার খালা চম্পা রানী। গতকাল দুপুর ১টার দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জয় বোচাগঞ্জ উপজেলার আনোড়া গ্রামের বিশ্বজিতের ছেলে ও খালা চম্পা রানী রায় (২২) একই উপজেলার জালগাঁও গ্রামের স্বদেব চন্দ্র রায়ের কন্যা।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরি উল্টে রোড ডিভাইডারে উঠে গেলে তার নিচে চাপা পড়ে চালকের সহকারী (হেলপার) মানিক (২৭) মিয়া নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর মহাসড়কের উভয়দিকে যানজটের সৃষ্টি হয়।
এদিকে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে অটোরিকশার ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে ওসমান গনি নামে দেড় বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয় শিশুটির বড় বোন হুমায়রা আক্তার লামহা (৬)। গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের মুন্সিহাটি এলাকায় তাদের বাসার সামনের রাস্তায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাত ১০টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিশুর বাবা জীবন আহমেদ শাকিল জানান, মুন্সিহাটি এলাকায় তাদের নিজেদের বাড়ি। রাতে দুই সন্তান নিয়ে তাদের মা বাসার পাশে একটি দোকানে যান চিপস কিনতে। এ সময় মায়ের কোলে ছিল ওসমান গনি। হঠাৎ দ্রুতগতির একটি অটোরিকশা তাদের তিনজনকে ধাক্কা দেয়। এতে মায়ের কোলে থাকা শিশু ওসমানসহ লামহা রাস্তায় পড়ে যায়। ওসমানের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে ও লামহার হাতে আঘাত লাগে। তখন শিশু দুটিকে পাশের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান স্বজনরা। সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক ওসমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা এবং সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে প্রতিবেদনটি তৈরি
