ধর্ষণের ঘটনায় এমপি জিন্নাহ

কোনো পক্ষই তো আমার রাজনীতি করে না

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:২৬ পিএম

বগুড়ার শিবগঞ্জের আটমূল ইউনিয়নে ১৭ বছরের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। দগ্ধ মেয়েটি গত ৩৪ দিন ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। ঘটনার ৩৪ দিন পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ মেয়েটির কোনো খবর নেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেশ কিছুদিন আগে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি কিংবা ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের কেউ-ই আমার রাজনীতি করে না।

পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না, আপনি কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বলেন, শুনেছি মেয়েটির অভিভাবকরা আমার কাছে আসবে। আগে তারা আসুক, তাদের কথা শুনি, তারপর চিন্তা করবো।

মেয়েটিকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। দেখি কি করা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেউ যখন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তখন তিনি কোন নির্দিষ্ট দলের থাকেন না। দলমত নির্বিশেষে তাকে সবার হয়ে কথা বলতে হয়। এখন এমপি যখন ধর্ষণের মতো বিষয়ে এমন বক্তব্য দেন, তখন তাকে বিতর্কিত করে তুলে। ধর্ষকদের প্রশ্রয় দেওয়া হয় এমন বক্তব্যের মাধ্যমে। দায়বদ্ধতা আর জবাবদিহিতা না থাকায় এমন বক্তব্য দিতে পারছেন এমপি জিন্নাহ।

জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বগুড়ার শিবগঞ্জের আটমূল ইউনিয়নের ১৭ বছর বয়সী মেয়েটিকে প্রথমে ধর্ষণ করে একই গ্রামের যুবক সাইফুর। সাইফুর মেয়েটির বাবা মাসুদুর রহমানের দুই চাচাতো ভাই রঞ্জু ও নাইমের সহযোগিতায় তার ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় মাসুদুর রহমান তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। তার বৃদ্ধ মা পাশের ঘরে নামাজ পড়ছিলেন যা আগে থেকেই জানতেন নাইম ও রঞ্জু। সেদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল এ সুযোগে সবার অগোচরে মেয়েটিকে একা পেয়ে সাইফুর ধর্ষণ করে এবং এক পর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে হত্যার উদ্দেশ্যে চটের বস্তা ও কাপড় দিয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

আগুনের আঁচে মেয়েটির জ্ঞান ফিরলে সে আগুন শরীরে নিয়ে দৌড়ে তার আরেক চাচা কামরুজ্জামানের বাড়িতে যায়। সেখানে সাইফুরের নাম উল্লেখ করে ঘটনার কথা জানায়। এরপর কামরুজ্জামান ও প্রতিবেশীরা মিলে মেয়েটিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন এরপর সেখান থেকে সেদিনই ঢাকায় নিয়ে আসেন।

এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের এইচডিওতে গত ৩৪ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে মেয়েটি। ইতোমধ্যে মেয়েটির ডান হাতের বুড়ো আঙুল ও তর্জনীর একটা অংশ কেটে ফেলতে হয়েছে, বাকিটুকুও দ্রুতই কেটে ফেলতে হবে। হাসপাতালে তার ৩ টি অপারেশন হয়েছে এবং আরও দুটি অপারেশন করতে হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, তাকে হাসপাতালে থাকতে হবে কমপক্ষে আরও আড়াই মাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত