চতুর্দিকে ঘোরাঘুরি শুরু হয়েছে, লাভ হবে না

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:৫৫ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা (সরকার) খুব আনন্দে আছেন। আমেরিকায় ১৮ দিন ঘুরে আসলেন, এখন ব্রাসেলস যাবেন। চতুর্দিকে ঘোরাঘুরি শুরু হয়েছে। ঘুরে ঘুরে চেষ্টা করছেন, যদি কোনোরকমে সামাল দেওয়া যায়। আমি বলতে চাই, ঘোরাঘুরি করে লাভ হবে না। চলে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। নির্যাতন-অত্যাচার-চুরি-দুর্নীতি করে রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এখন মানুষ বাঁচতে চায়। সরকার হটানোর এক দফা আন্দোলন ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে ছাত্রসমাজকে ‘হাত গুটিয়ে না থেকে জেগে ওঠা’র ডাক দেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যে’র উদ্যোগে ছাত্র কনভেনশনে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। কনভেনশন থেকে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ছাত্র ঐক্যের মুখপাত্র ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখনো বলছি, সময় আছে। মান্না (মাহমুদুর রহমান মান্না) বলেছেন, দুর্গাপূজার কথা। দুর্গাপূজার সময় যে ছুটি থাকবে এর মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেন। মানুষ ভোট দিতে যাবে। এতই যদি জনপ্রিয় হন, তাহলে সুষ্ঠু একটা ভোট দিতে অসুবিধা কোথায়? পদ্মা সেতু, আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল, উড়াল সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বানিয়েছেন, লোকজন তো আপনাকেই ভোট দেবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আপনি করবেন না। কারণ আপনি জানেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আপনাদের অস্তিত্ব থাকবে না। তিনি বলেন, আমরা ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বড় যুদ্ধে নেমেছি। যারা আমাদের সব অধিকার খানখান করে দিয়ে। বাংলাদেশটাকে তাদের বিচারকের ভাষায় জাহান্নাম বানিয়েছে। তাদের একটা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার যুদ্ধে নেমেছি। মুখে কুলপ এঁটে বসে থাকবেন না, হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। যদি নিজেরা বাঁচতে চান, দেশকে বাঁচাতে চান। আশাবাদী যে ছাত্র ঐক্য তৈরি হয়েছে, যুবক-তরুণদের ঐক্যের মধ্য দিয়ে নিঃসন্দেহে এ দানব ফ্যাসিবাদের পরাজয় ঘটবে।

সাবেক ছাত্র নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে মঙ্গলবার তার ধানম-ির বাসা থেকে গভীর রাতে দরজা ভেঙে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করার ঘটনা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, পুলিশ অফিসার যাদের আমাদের পয়সায় বেতন হয়, তারা বেআইনিভাবে তার ওপর হাত তুলে তাকে আহত করেছে। কোন অবস্থায় এ্যানির মতো একজন সাহসী ছেলে আদালতে দাঁড়িয়ে বলে, চোর-ডাকাতকে মানুষ এভাবে মারে না, যেভাবে তারা (পুলিশ) মেরেছে। সবাইকে জেগে উঠতে হবে। অন্যথায় আজকে এ্যানিকে মেরেছে, কাল আপনাদের সবাইকে মারবে।

নিজের ছাত্রজীবনের কথা স্মরণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি। যুদ্ধ করে একটা স্বাধীন দেশ তৈরি করেছি, স্বৈরাচারকে পরাজিত করেছি। আপনাদের (ছাত্রসমাজ) কাছে সেই গুরু দায়িত্ব এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিচারব্যবস্থা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতিসহ সর্বক্ষেত্রে সরকারের ‘দলীয়করণ’, ‘লুটপাট’, ‘দুর্নীতি’র চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, তরুণদের সব ক্ষোভটা মোবাইল সেটে। স্ট্যাটাস দিলেই ক্ষোভ শেষ হবে না। ক্ষোভ রাজপথে আসতে হবে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ১৫টি ছাত্র দল সংগঠনে নিয়ে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যে’র আত্মপ্রকাশ হয়। সংগঠনগুলো হচ্ছে ছাত্রদল, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্রলীগ (জেএসডি), গণতান্ত্রিক ছাত্রদল (এলডিপি), নাগরিক ছাত্র ঐক্য, জাগপা ছাত্রলীগ (প্রধান), ছাত্র ফোরাম (গণফোরাম-মন্টু), ভাসানী ছাত্র পরিষদ, জাতীয় ছাত্রসমাজ (কাজী জাফর), জাতীয় ছাত্রসমাজ (বিজেপি-পার্থ), জাগপা ছাত্রলীগ (খন্দকার লুৎফুর), ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, বিপ্লবী ছাত্র সংহতি এবং রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলন। কনভেনশনে ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।

জাতীয় ছাত্র ঐক্যের সমন্বয়ক ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খানের সভাপতিত্বে কনভেনশনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির রাকিবুল ইসলাম বকুল, ছাত্র অধিকার পরিষদের তারিকুল ইসলাম, ছাত্র ফেডারেশনের মশিউর রহমান খান রিচার্ড, ছাত্রলীগ (জেএসডি) তৌফিক উজ জামান, নারীনেত্রী ছাত্রদলের মানসুরা আলম প্রমুখ নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত