ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আপসেটের উদাহরণ হয়ে ছিল ২০১১ আসরে আয়ারল্যান্ডের কাছে হারের ঘটনাটি। ৩২৮ রানের ইতিহাস গড়া লক্ষ্য তাড়া করে ইংলিশদের ৩ উইকেটে হারিয়েছিল আইরিশরা। এর এক যুগ পরে আরও একটি অঘটনের সাক্ষী হলো ইংল্যান্ড। গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবার ৬৯ রানের হার মেনে বসল আফগানিস্তানের কাছে।
আফগানদের এই জয়ের নায়ক মুজিব উর রহমান। তিনি বলেন, 'খুবই গর্বের মুহূর্ত আমার জন্য, আমার দেশের জন্য। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারানো কোনো সহজ কাজ নয়। আর এ কাজটি করতে পারা আমাদের একটি অনন্য অর্জন। এমন একটি মুহূর্তের জন্যই আমরা এত দিন ধরে নিজেদের প্রস্তুত করেছি। আমাদের ব্যাটসম্যানদের কৃতিত্ব প্রাপ্য মাঝপথে খেই হারানোর পরও স্কোরবোর্ডে এমন একটা লক্ষ্য দাঁড় করাতে পারার জন্য। বোলাররাও দারুণ প্রদর্শনী দেখিয়েছে। ব্যাট হাতে শেষদিকে কিছু রান করতে পেরেও আমি খুশি। এভাবে দলের জনয়ে আরও অবদান রাখতে চাই।”
আফগানিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে এমন খুশির উপলক্ষ আর আসেনি আগে। স্বভাবতই উচ্ছসিত অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদি বলেন, 'আমরা সবাই খুব খুশি।এ জয়টি আমাদের ইতিহাসের সেরা জয়। ওপেনাররা সুন্দর শুরু এনে দিলেও মাঝপথে বিপর্যয়ে পড়েছিলাম। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেওয়া খুবই আনন্দের। আগের ম্যাচগুলোতে আমরা ইনিংসের শেষ অংশটুকু সুন্দর করে সম্পন্ন করতে পারিনি। এই ম্যাচে সেটি হয়েছে।
এই বিশ্বকাপে কোটি সমর্থককে আরও জয় উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করে বক্তব্য শেষ করেন শাহিদি। বলেন, ‘সব আফগান সমর্থককে জানাতে চাই, এটি আমাদের প্রথম জয়, আর এখানেই শেষ নয়।’
ম্যাচশেষে এই হারকে হতাশাজনক বলে আখ্যায়িত করে ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার। তিনি বলেন, টস জেতার পরও এত রান হজম করাটা মোটেও উচিত হয়নি আমাদের। আফগানিস্তান দারুণ খেলেছে। তারা প্রতিটি বিভাগে আমাদের ছাপিয়ে গেছে।’
ঘুরে দাঁড়ানোর আভাসও দিয়েছেন বাটলার, ‘এমন হারের ক্ষত আপনাকে অবশ্যই সহ্য করতে হবে। খুব শিগগির তা ভোলা যাবে না। তাহলেই এর প্রতিক্রিয়া আসবে। আমাদের স্কোয়াডটি যথেষ্ট শক্তিশালী। এই হারের বেদনা থেকেই আমরা ঘুরে দাঁড়াব। এখনই সব শেষ হয়ে যায়নি।’
