ফের অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের তাগিদ যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:০৪ এএম

বাংলাদেশের মানুষ যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আখতার। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে এ তাগিদ দেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন আফরিন আখতার। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসও উপস্থিত ছিলেন।

এ বৈঠকের বিষয়ে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদুল আলমের সঙ্গে দেখা করে আমরা আনন্দিত। আমরা আমাদের শক্তিশালী বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। মার্কিন প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ও বাণিজ্য, আমাদের দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন অংশীদারত্ব, মধ্যপ্রাচ্য, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সাম্প্রতিক সফর এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ইত্যাদি ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের ভোট প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এ বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, ‘জনসমক্ষে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিরা অযাচিত হস্তক্ষেপ করলে আপত্তি আছে সরকারের। বন্ধু হিসেবে কূটনৈতিক চ্যানেলে বললে তা বিবেচনা করবে ঢাকা।’

র‌্যাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। আর যেকোনো বাহিনীর সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে আইনশৃঙ্খলা পরিবেশের উন্নতি হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আখতার গতকাল তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। সফরকালে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন। আফরিন আখতার তার এবারের সফরে ঢাকায় বিভিন্ন বৈঠক ছাড়াও রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শন করবেন। আজ মঙ্গলবার তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শন করবেন।

আফরিন আখতার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোতে বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সঙ্গে সম্পর্ক দেখভাল করেন। এ ছাড়া তিনি নিরাপত্তা ও আন্তঃদেশীয়-বিষয়ক দপ্তরেরও উপসহকারী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে গত মে মাসে তিনি ঢাকা সফর করেছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত