শাহজালালে চার প্রবাসীর ব্যাগ কেটে মালামাল চুরি

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:১৭ এএম

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিঙ্গাপুর থেকে আসা চার যাত্রীর পাঁচটি ব্যাগ কেটে সোনা ও মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান বিভিন্ন জিনিস চুরি হয়েছে। গত রবিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিমানবন্দরের ভেতরে ভুক্তভোগী যাত্রীরা আর্তনাদ করে কান্নাকাটির পাশাপাশি চুরি হওয়া মালামাল ফেরত না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দেন।

যাত্রীদের আর্তনাদের দৃশ্যের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পরপরই নড়েচড়ে বসে বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সিভিল অ্যাভিয়েশন ও বাংলাদেশ বিমানের নিরাপত্তা বিভাগ আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

ভুক্তভোগীরা হলেন গাজীপুরের বাসুদেব দাস, মুন্সীগঞ্জের নিমতলীর শিশির সরকার, ঢাকার তেজগাঁওয়ের তাহসিনা খান ও ঢাকার পল্লবীর হাসান আহম্মেদ শোভন। সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়রালাইনসের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন তারা।

ভুক্তভোগরীরা বিমানবন্দরের লস্ট এন্ড ফাউন্ড ডেস্কে অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া বিমানবন্দর থানায় গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন। বিমানবন্দর থানার ওসি আজিজুল হক বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা রবিবার রাতে থানায় এসেছিলেন। তবে তারা কোনো মামলা করেননি। তারা বলেছেন, বিমানবন্দরের লস্ট এন্ড ফাউন্ড ডেস্কে অভিযোগ করেছেন। সেখানে সুরাহা না হলে তারা থানায় মামলা করবেন।’

ভুক্তভোগী শিশির সরকার জানান, তার ব্যাগে থাকা ছয় ভরি ওজনের সোনার গয়না ও মোবাইল ফোন খোয়া গেছে। আরেক ভুক্তভোগী বাসুদেব দাস বলেন, ‘আমার কাছে ২৯ গ্রাম সোনা ছিল। আরও একটা চেইন মায়ের জন্য কিনেছিলাম। সঙ্গে দুটি মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে।’

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, তারা বিমান থেকে নামার প্রায় দুই ঘণ্টা পর একজনের লাগেজ আসে। বিষয়টি নিয়ে তখন সন্দেহ হয়। পরে লাগেজ পেলেও খোলা পান।

এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম জানান, রবিবার ৬টা ১১ মিনিটের সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সিঙ্গাপুর থেকে আসা ফ্লাইট (ইএ-৫৮৫) অবতরণ করে। বেল্ট থেকে লাগেজ সংগ্রহের পর চার যাত্রীর মূল্যবান সামগ্রী লাগেজ থেকে খোয়া গেলে তারা অভিযোগ করেন। বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের বিমানবন্দরে চেকিং কাউন্টার, ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এ চার যাত্রী হাতে পাঁচটি লাগেজ বহন করছিলেন। পরে বিমানে ওঠার আগমুহূর্তে লাগেজ পাঁচটির আকৃতি বড় ও অতিরিক্ত ওজন হওয়ায় তা কেবিন লাগেজ থেকে হোল্ড লাগেজে স্থানান্তরের জন্য যাত্রীদের জানানো হয়। এরপর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর লাগেজ খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সদস্যরা বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষকে জানান। এ ছাড়া র‌্যাম্প সিকিউরিটি সদস্যরা বিমান অবতরণের পর লাগেজ খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যাত্রীরা লিখিত অভিযোগ করেন এবং এ অভিযোগের ভিত্তিতে সিঙ্গাপুরের বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরেও বিষয়টি নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংশিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকেও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত