চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্র্তৃপক্ষ গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর নগরের আনন্দবাজার বেড়িবাঁধ এলাকার ল্যান্ডফিলে ৯ হাজার ১৩ টন আমদানি নিষিদ্ধ ‘মিট অ্যান্ড বোন মিল’ বা এমবিএম (মৎস্য ও পোলট্রির খাবার) ধ্বংস করে মাটির নিচে পুঁতে ফেলেছিল। কিন্তু একটি চক্র রাতের আঁধারে মাটি খুঁড়ে বিষাক্ত এই খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন মৎস্য ও পোলট্রি খামারে বিক্রি করে আসছে। গত এক বছরে এমবিএম পাচার এবং গুদামজাতের অভিযোগে নগর ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের আলাদা অভিযানে ধরা পড়ে আটজন। এ সময় তিন হাজার বস্তা এমবিএম জব্দ করা হয়।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি সত্ত্বেও থামছে না নিষিদ্ধ এমবিএম বিক্রি। সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে আনন্দবাজার ল্যান্ডফিল থেকে কাভার্ড ভ্যান বা ট্রাকে করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন মৎস্য ও পোলট্রি ফার্মে সরবরাহ করছে। চট্টগ্রামের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, এমবিএম ও ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে পোলট্রি ফিড এবং মাছের খাদ্য তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, এমবিএম খাওয়ানো মুরগি ও মাছ মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যদিও এমবিএম খাইয়ে এক মাসের মধ্যে বড় করে তোলা মুরগির মাংস উঠছে মানুষের পাতে। মাছের খাবারেও মেশানো হচ্ছে এই খাদ্যপণ্য। ফলে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে এমবিএম বাজারজাত চক্রের কয়েকজনের নাম পেয়েছেন তারা। এই চক্রের প্রধান হিসেবে জানা গেছে আবদুল মান্নান নামে একজনের নাম। তার গ্রামের বাড়ি নগরের কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের হামদু মিয়ার বাড়িতে।
এ ছাড়া পুলিশের তদন্তে আরও যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলো লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জ চকবাজার এলাকার মো. মাঈন উদ্দিন, নগরের ডবলমুরিং থানার আবসার কলোনির নুরুল আবছার, হালিশহর এলাকার আলাউদ্দিন, বন্দর থানা এলাকার ইরফান উদ্দিন, নগরের বন্দর থানার আনন্দবাজার এলাকার খাইরুজ্জামান বাড়ির মো. ইরফান উদ্দিন, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভা এলাকার সুজন কান্তি দে, নগরের বন্দর থানাধীন ধুমপাড়া এলাকার গিয়াস উদ্দিন, নগরের পতেঙ্গা মুসলিমাবাদ এলাকার মো. ইউছুপ, নগরের বন্দর থানাধীন জিন্নাত আলী মুনশির বাড়ির আশরাফ ইসলাম রনি।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) সুদীপ্ত সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমবিএম বাজারজাতে জড়িত সংঘবদ্ধ একটি চক্র। গত ২১ আগস্ট বাঁশবাড়িয়ার একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন হাজার বস্তা এমবিএম জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ছানোয়ারের তথ্য অনুয়ায়ী এমবিএম মজুদ ও বাজারজাতে জড়িত কারখানা মালিকসহ দুজন। তারা হলেন সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি জাহানাবাদ সিরাজ মেম্বার বাড়ির মো. সিরাজুল হকের ছেলে মো. রাশেদুল হাসান এবং হাটহাজারীর মীরেরহাট আলমপুর এলাকার মো. মোজাহেরুল আলমের ছেলে মো. ইলিয়াছ। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ দুজনের সঙ্গে নগর পুলিশের তদন্তে উঠে আসা আবদুল মান্নানের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অন্যতম এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের চাক্তাই ও রাজাখালী এলাকায় আস্তানা গেড়েছে এমবিএম বাজারজাতকারী চক্র। এই চক্রের প্রধান নেছার আহমদ। নগরের শাহ আমানত সংযোগ সড়কের পাশে রাজাখালী এলাকায় (মীর ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে) নীল রঙের টিন দিয়ে তৈরি তাদের বিশাল একটি গোডাউন রয়েছে।
বন্দর থানার ওসি সঞ্জয় কুমার সিনহা বলেন, ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য এমবিএম কতটা ক্ষতিকর তা চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এই চক্রের মূলহোতা আবদুল মান্নানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
