কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়ায় ক্ষোভ দূর হচ্ছে না পুলিশে। সংখ্যাতিরিক্ত (সুপারনিউমারারি) পদোন্নতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের ৫২৯টি পদ সৃষ্টি করতে পুলিশ আবেদন করেছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পদোন্নতির প্রস্তাব পাঠানোর পর ৩৪২টি পদ দেওয়ার কথা বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সেটি পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে কাটছাঁট করায় পুলিশে অসন্তোষ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর পদের সংখ্যা আরও বাড়াতে স্বরাষ্ট্র থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আরেকটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠির বর্তমান কী হাল, সে ব্যাপারে কিছুই জানা যাচ্ছে না।
এ নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করলেও পদোন্নতির বিষয়টির সুরাহা হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, অন্য ক্যাডারে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমাদের বেলায় কেন এরকম হচ্ছে বুঝতে পারছি না। আমাদের পদোন্নতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত অবহিত। পুলিশের তালিকাটি অনেক বড় ছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে ৭২০ জনের স্থানে ৫২৯ জনের তালিকা চূড়ান্ত করে পাঠানো হয়। অথচ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এর কাটছাঁট করে পদোন্নতির পদসংখ্যা কমিয়ে ফেলে। এ কারণে আমরা ক্ষুব্ধ। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যদের সঙ্গে আইজিপি ও অন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। এক মাস আগে পদোন্নতির সংখ্যা আরও বাড়াতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ওই কর্মকর্তারা বলেন, চিঠি দেওয়ার পরও এর সুরাহা না হওয়ার বিষয়টি আমাদের মন্ত্রী ও সচিবকে জানিয়েছি। পদোন্নতির ব্যাপারে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবার দেখা করব। অন্য ক্যাডাররা পদোন্নতি পেলে আমরা কেন পাব না? আমরা তো রাষ্ট্রের জন্যই কাজ করি। দিন-রাত পরিশ্রম করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখি। আশা করি, চিঠির জবাব পাওয়া যাবে। পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবটিরও সমাধান হবে।
জানা গেছে, পুলিশের ৫২৯ জনের তালিকার মধ্যে গত ১৪ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সুপারনিউমারারি হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি পদে ২, ডিআইজি পদে ৫০, অতিরিক্ত ডিআইজি পদে ১৪০ ও পুলিশ সুপার পদে ১৫০ জনকে পদোন্নতি দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রস্তাবটির সুরাহা হয়নি এখনো। পুলিশ সদর দপ্তরের তালিকায় ছিল অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (গ্রেড-১) ১৫, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (গ্রেড-২) ৩৪, উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ১৪০, অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) ১৫০ ও পুলিশ সুপারের ১৯০টি পদ। কাটছাঁট করার পর পুলিশে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। এ অসন্তোষ এখনো আছে।
পুলিশের মনোবল চাঙ্গা করতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদোন্নতির সংখ্যা বাড়াতে জরুরি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নুর-এ-মাহবুবা জয়া। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ পুলিশ রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ বাহিনীকে নেতৃত্ব প্রদানে পুলিশ সুপার থেকে তদূর্ধ্ব পদে পর্যাপ্তসংখ্যক ও দক্ষ জনবল থাকা বাঞ্ছনীয়। প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য পদসংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। পদের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশের পদোন্নতির বিষয়টির দ্রুত সমাধান হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠির বিষয়ে একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের যেমন পদোন্নতি দরকার তেমনি পুলিশেরও দরকার। আজ (গতকাল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সঙ্গে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা কথা বলেছেন। তিনিও চেষ্টা করছেন পুলিশের পদোন্নতি যাতে হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীও জানেন।’
পুলিশ সদর দপ্তরের আরেক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, জনপ্রশাসন অবাক করার মতো কান্ড ঘটিয়ে পুলিশের সংখ্যাতিরিক্ত পদোন্নতির তালিকা কাটছাঁট করে। সুপারনিউমারারি পদে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে ১৫ ও ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১৮, ২০, ২১, ২২ ও ২৪তম ব্যাচের প্রায় সবার ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন নীতিনির্ধারকরা। ২৭, ২৮ ও ২৯তম ব্যাচের অতিরিক্ত সুপারদের পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতির বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়।
