মৎস্যজীবীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৯:০৯ পিএম

বছরের একটা দীর্ঘ সময় সামুদ্রিক মৎস্য শ্রমিকদের কর্মহীন থাকতে হয়। কিন্তু এ সময়ে যে অনুদান প্রয়োজন তা তাদের দেয়া হয় না। আবার একটি বড় অংশ অনুদান থেকে বঞ্চিত হন। মৎস্যখাতের সরবরাহ চেইনে জড়িত সকল শ্রমিককে শ্রম আইনের আওতায় এনে সার্বিকভাবে তাদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (বিল্স) আয়োজিত ‘মৎস্যজীবীদের আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা: প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিল্স এর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তাফিজ আহমেদ।

তিনি বলেন, মৎস্য খাতের শ্রমিকদের নির্ধারিত কর্মঘন্টা মানা হয় না। প্রায় অর্ধেক মৎস্যজীবী জানিয়েছেন তাদের কর্মঘণ্টা নির্ধারিত নয়। তাদের বিরতি নেই। একটি বড় অংশ কোন সাপ্তাহিক ছুটি পান না। শ্রমিকদের ন্যূনতম মুজুরি ২০২২ সালে ৬ হাজার ৭০০ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু এটা নিয়ে কোন প্রচারণা হয়নি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিল্স এর উপদেষ্টা ও জাতীয় মৎস্যশ্রমিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক নইমুল আহসান জুয়েল।

তিনি বলেন, সরকারি বিভিন্ন সেক্টরে ঝুঁকি ভাতা রয়েছে। কিন্তু মৎস্যজীবীরা এতো ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে মাছ ধরেন। তাদের জন্য কোন ঝুঁকিভাতার ব্যবস্থা নেই। তারা আছেন নাকি নেই সে তথ্যও সংগ্রহ করা হয় না। সরকার যদি সমুদ্রে মৎস্য আহরণ করা নৌযান থেকে ট্যাক্স সংগ্রহ করতে পারে তাহলে ডাটাবেজও তৈরি করতে পারে। দাদনপ্রথাকে নির্মুল করতে হবে।

এসময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মনোয়ারা বেগম বলেন, শ্রম আইনে কৃষিজীবীরা যুক্ত আছেন। এর মধ্যে মৎস্যজীবীও পড়েন। আমি যে কোন খাতে গেলে মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়ে জোর দেই। সব স্থানেই মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ডাটাবেইজ তৈরির জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।

গোলটেবিল বৈঠকে বিল্স ও জাতীয় মৎস্য শ্রমকি অধিকার ফোরামের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত