‘একতরফা’ হলে নির্বাচনের প্রয়োজন কী : ফখরুল

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:১৭ এএম

‘একতরফা’ হলে নির্বাচনের প্রয়োজন কী? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে এমন প্রশ্ন রেখে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, উনি আমাদের শেষ বার্তা দিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচনকালীন সময়ে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। আবারও নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে আসবেন। সেটাই যদি মনে করেন, তাহলে তো নির্বাচনের প্রয়োজনই নেই। আপনারা তো সেটাই চাচ্ছেন। আমরা বলেছি, সময় আছে, সেফ এক্সিট নেন, পদত্যাগ করে চলে যান। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে দেশকে সংকটের হাত থেকে রক্ষা করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের নসরুল হামিদ মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী সমমনা দলের উদ্যোগে জোটের শরিক ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সদ্য প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

গত ১৩ অক্টোবর মিরপুর বারডেম হাসপাতালে মারা যান সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি। ৮০-এর দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ছাত্র সংগঠনগুলো নিয়ে সরকারবিরোধী ছাত্র ঐক্যের নেতা ছিলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা আমাদের নির্বাচন করতে দেওয়ার ব্যাপারে বাধা সৃষ্টি করছে। বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচনে আসতে দিতে চায় না। কারণ একটাই, তারা খালি মাঠে ওয়াকওভার চান। সেজন্য ওবায়দুল কাদেররা প্রাণপন চিৎকার করে বলতে শুরু করেছেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, এটাই শেষ বার্তা। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি (ওবায়দুল কাদের) যে কথাটা বলছেন, এটা কি জনগণের কথা? আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এরা প্রতারক দল। নির্বাচনের আগে মানুষকে সুন্দর সুন্দর কথা বলে আকৃষ্ট করে। নির্বাচনের পরে ওই মানুষগুলোই আবার গান গায় ‘আগে জানলে তোর ভাঙা নৌকায় উঠতাম না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে যে অবস্থাটা দাঁড়িয়েছে, সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলবে, আমরা আর পারছি না। এই সরকার যদি আরও টিকে থাকে, হাসিনা যদি আবার প্রধানমন্ত্রী হয়, তাহলে তো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব। এটাই বাস্তবতা।

মির্জা ফখরুল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি খায়রুল হক শর্ট ভারডিক (সংক্ষিপ্ত রায়) দিয়ে বললেন, এটা (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটাকে আরও দুই টার্ম দেশ ও জনগণের স্বার্থে রাখা যেতে পারে। ১৬ মাস পরে অবসরে গিয়ে খায়রুল হক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দিলেন। শর্ট ভারডিক সেটাকে অমাণ্য করে আওয়ামী লীগ সংসদ এক তরফাভাবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনী ব্যবস্থা পাস করিয়ে নিল। আওয়ামী লীগ যে সংশোধনীর ওপর নির্বাচন করল, সেটা সম্পূর্ণ বেআইনি। তাহলে বেআইনি সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে কি করে?

বিএনপির এই নেতা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন হরতাল করেছে। এখন চিৎকার করে বলছেন, ওটা নাকি আজিমপুর কবরস্থানে চলে গেছে। কবর দিয়ে দিয়েছেন। যেটার কবর হয়ে যাবে, সেটার জন্য ১৭৩ দিন হরতাল করলেন কেন? গান পাউডার দিয়ে এতগুলো মানুষকে মারলেন কেন?

তিনি বলেন, সমাবেশে দেখেছেন, ঢল নেমেছে মানুষের। সমুদ্রের টেউয়ের মতো মানুষ আসছে। সচেতনভাবে আমরা কনফোনট্রেশন, কোনো সংঘাতমূলক কর্মসূচি দিইনি। এটা আন্তর্জাতিক বিশ্ব, গণতন্ত্রে বিশ্বাসীরা চায়। ৫২ বছর পরও চিন্তা করতে হয়, নির্বাচন কীভাবে হবে। পাকিস্তানও নির্বাচন পদ্ধতি উন্নতি করেছে, নেপাল-মালদ্বীপ সুষ্ঠু করেছে। এখন শ্রীলঙ্কাও চেষ্টা করছে। আর আমরা পারছি না আওয়ামী লীগের কারণে।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা ও জাপার সাধারণ সম্পাদক এসএম শাহাদাতের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, বিকল্প ধারার নুরুল আমিন ব্যাপারী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শক্তির লড়াইটা খুব সহজ নয়। এখানে মৌলিক পার্থক্য হলো অস্ত্র-শস্ত্র, রাষ্ট্র ক্ষমতা সবকিছুকে নিয়ে সে আক্রমণ করে। আর আমরা জনগণকে নিয়ে সেই আক্রমণ প্রতিহতের চেষ্টা করি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা অনেকদূর এগিয়ে গেছি। আমাদের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো দেশের মানুষকে এক করতে পেরেছি। দেশের রাজনৈতিক চিন্তার মানুষ (ডান-বাম) সবাইকে আমরা এক করতে পেরেছি। এখন শুধু চূড়ান্ত বিজয়ের অপেক্ষা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত