স্বাস্থ্যের ঠিকাদার মিঠুর ৭৪ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:১৮ এএম

স্বাস্থ্য খাতের আলোচিত ও প্রভাবশালী ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর প্রায় ৭৪ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শককে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। আদালতের অনুমোদন নিয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

দুদক সচিব বলেন, মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের মালামাল সরবরাহ ও উন্নয়ন কাজের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। আমাদের গোয়েন্দা শাখার মাধ্যমে জানতে পেরেছি তিনি দেশে অবস্থান করছেন। যেহেতু তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে, এ কারণে আদালতের মাধ্যমে মিঠুর বিদেশ গমন রহিত করা হয়েছে। তার অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি আদালতের মাধ্যমে ক্রোক করা হয়েছে।

মিঠুকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, আপাতত তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রদান ও সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা প্রয়োজনে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা নেবেন।

দুদকের তথ্যমতে, কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগটি অনুসন্ধান করেছেন উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান। মাস্ক ও পিপিই ক্রয়ে দুর্নীতির জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০২০ সালে ৬ আগস্ট তাকে তলব করা হলে তিনি দুদকে হাজির হননি।

দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, মিঠু সিন্ডিকেট করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল মৌলভীবাজার, জেনারেল হাসপাতাল গোপালগঞ্জ, আইএইচটি সিলেট, ঢাকা ডেন্টাল কলেজ, ঢাকা ডেন্টাল হাসপাতাল এবং রাজধানীর সিএমএসডিতে অতি উচ্চমূল্য দেখিয়ে নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ, দরপত্রের শর্তানুযায়ী মালামাল সরবরাহ না করা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মালামাল সরবরাহ না করেই বিল উত্তোলন করেন। একইসঙ্গে অপ্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহ করেন।

ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের অনুমোদন নিয়ে মিঠুর ১৬ কোটি ৪১ লাখ ৯১ হাজার ৫০০ টাকার স্থাবর এবং ৫৭ কোটি ৩১ লাখ ৮০ হাজার ২৩৮ টাকা অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৭৩ কোটি ৭৪ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৮ টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করে দুদক। তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকার রোড-৪/এ-তে ৫ কাঠা জমিতে পাঁচতলা বাড়ি, বানানীর ৬ নম্বর রোডের ব্লক সিতে ১৮২৫ বর্গফুট ফ্ল্যাট, উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর রোডে ৫.২৫ কাঠা জমিতে চারতলা বাড়ি, একই এলাকার ৫ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর রোডে ছয়তলা বাড়ি, গুলশানের সুবাস্তু নজর ভিলায় ৩৭২৫ ও ৫৮৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ও দুটি কার পার্কিং, দক্ষিণ কল্যাণপুরের ১ নম্বর রোডে ১৫৮৩ বর্গফুট ফ্ল্যাট, উত্তরার ১৫সি রোডের ৩ কাঠার দুটি প্লট, টঙ্গী শিল্প এলাকায় দুই বিঘা জমি ও ভবন এবং রংপুরের বুড়িহাট রোডে কয়েক কোটি টাকার বিলাসবহুল বাড়ি। তার ঢাকার গুলশান, বনানী, উত্তরা, টঙ্গী, কাপাসিয়া ও রংপুরে একাধিক অফিস রয়েছে।

জানা গেছে, এসব সম্পদের বাইরে তার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শতকোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে একোয়া কালচার ফার্মস লিমিটেড, জিএমজি এয়ারলাইনস, নর্থ চিকস প্রাইভেট লিমিটেড, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, কছিল উদ্দিন মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বায়ো মেডিকেল মার্চেন্টাইজ প্রাইভেট লিমিটেড ও আই-পাইওনিয়ার হিটাসি প্রাইভেট মেডিকেল। এছাড়া তার শেয়ারবাজারে শতকোটি টাকার বিনিয়োগ, সাউথইস্টসহ বিভিন্ন ব্যাংকে শতকোটি টাকা থাকার তথ্য রয়েছে। এর বাইরে মিঠুর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত