তালতলীতে খাল দখল করে প্রভাবশালীদের স্থাপনা

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ১০:৪৩ পিএম

বরগুনার তালতলীতে পায়রা নদীর পাশেই তালতলী বাজারের পশ্চিম পাশে সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে পাকা ভবন নির্মাণ করেছে প্রভাবশালীরা। উপজেলা প্রশাসন এ কার্যক্রম বন্ধে একাধিকবার পদক্ষেপ নিলেও দখল থামেনি। দখলের এই উৎসব চলছে উপজেলার আরও বিভিন্ন স্থানে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগীর দোনা খালের পাড়েই গড়ে ওঠেছে তালতলী শহর। খালটি পায়রা নদী থেকে উৎপন্ন হয়েছে। প্রায় ২০০ বছর আগে রাখাইনরা কৃষিকাজের জন্য খালটি খনন করে বলে জনশ্রুতি আছে। খালটি ঠংপাড়া থেকে সওদাগরপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার। এখন সেচ কাজের জন্য তেমন একটা ব্যবহার না হলেও তালতলী বাজারের পানি নিষ্কাশন ও নৌরুটের একমাত্র পথ এ খালটি। তবে দখল ও দূষণের কবলে পড়ে এই খালটি অতীত ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।

এদিকে তালতলী সদরের বাজারে ওই খাল থেকে পণ্য ওঠানামা করার জন্য ছয়টি জেটিঘাট থাকলেও তার পাঁচটি দখল করে রেখেছে প্রভাবশালীরা। সেগুলোতে দোকান উঠিয়ে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের বাজারের পাশেই সরকারি খালের একপাশ দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা পাকা ভবনের নির্মাণ করেছেন। এই দখলের কারণে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে।

এ সময় একাধিক লোকের সঙ্গে কথা হলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করায় এই খালে পানি প্রবাহে বাধা ও চলাচলকারী নৌযানগুলো বিপাকে পড়বে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন স্থানীয়রা।

নাম না প্রকাশের শর্তে বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এই বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী তাদের কাঠের ঘর ভেঙে সরকারি জায়গায় পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না।

তালতলী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান ফারুক বলেন, অবৈধভাবে কেউ খাল দখল করে স্থাপনা করা ঠিক না। এতে খালের পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এই খাল যারা দখল করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে আশাকরি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত আনোয়ার তুমপা বলেন, ইতিমধ্যে অবৈধ স্থাপনা ও নির্মাণাধীন ভবন অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছি। নতুন করে কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত