এক বছরের প্রকল্পে চার বছর শেষ, কাজ হয়নি অর্ধেকও

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৩, ১২:৪৭ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্র সৈকতের উন্নয়নে ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল গত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। এক বছরের এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে। কিন্তু এক বছরের প্রকল্পের মেয়াদ প্রায় চার বছরে পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি অর্ধেকও। এর মধ্যে গত দুমাস ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া নির্মাণাধীন বিভিন্ন অবকাঠামোতে ফাটল দেখা দেওয়ায় কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন সূত্র জানায়, পারকি সৈকতসংলগ্ন এলাকায় ১৩ দশমিক ৩৩ একর জায়গায় নির্মিত হচ্ছে আধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্স। এতে থাকবে ৮০০ বর্গফুট করে ১০টি সিঙ্গেল কটেজ ও ১৩৫০ বর্গফুটের চারটি ডুপ্লেক্স কটেজ। আর থাকবে তিনতলা বিশিষ্ট একটি মাল্টিপারপাস ভবন, যে ভবনে থাকবে অফিস কক্ষ, রেস্তোরাঁ ও বার। এ ছাড়া তিনতলা বিশিষ্ট একটি সার্ভিস ব্লকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার ব্যবস্থাসহ অতিথিদের জন্য ২২টি কক্ষের পরিকল্পনা রয়েছে। আরও রয়েছে ১০৫০ বর্গফুটের একটি সাবস্টেশন ভবন, অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ, সিকিউরিটি রুম, ১৭০৮ বর্গফুটের দুটি পিকনিক শেড নির্মাণসহ হ্রদ ও শিশুদের খেলাধুলার মাঠ।

প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী ২০২০ সালের নভেম্বরে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রথম ধাপে মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ধাপে আবার মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এখন পর্যটন করপোরেশন বলছে, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ফের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজগুলোকে তিন ভাগে বাস্তবায়ন করছে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে সীমানা প্রাচীর ও গেটপোস্টের কাজ করছে রাজ করপোরেশন; বালু ভরাট, হ্রদ, ভেতরের রাস্তা ও নালার কাজ করছে নিয়াজ ট্রেডার্স এবং অবকাঠামোগত অন্য কাজ করছে দেশলিংক লিমিটেড।

সরেজমিন প্রকল্প এলাকায় দেখা যায়, এবড়োখেবড়ো অবস্থায় পড়ে থাকা রডে মরিচা ধরেছে। কটেজের ছাদে ফাটল দেখা যাচ্ছে, রাস্তা ফেটে গেছে এবং উত্তর পাশে সীমানা প্রাচীর বেঁকে গেছে। স্থানীয় বারশত ইউপির চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ বলেন, ‘খুব বাজেভাবে প্রকল্পের কাজটি করা হচ্ছে। নিম্নমানের ইট, বালু আর লবণাক্ত পানি ব্যবহার করায় কাজটি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।’ প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজ বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান দেশলিংক লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মাসুদুল আলমের মোবাইলে ফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ত) প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, ‘প্রকল্প পরিচালক দেশের বাইরে থাকায় কিছু দিন কাজ বন্ধ আছে। এ সপ্তাহে আবারও কাজ শুরু হবে। কোনো ভবনে ফাটল দেখা দিলে তা ঠিক করে নেওয়া হবে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত