মুম্বাই শহরটির অবস্থান আরব সাগরপাড়ে। সেই সাগরে ঝড় ওঠে প্রায়শই। গতরাতে ওই ঝড় দেখা গেছে শহরটির ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। সেই ঝড় সৃষ্টি করেছেন ৩২ বছরের প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান হেইনরিখ ক্লাসেন। তার ৬৭ বলে ১০৯ রানের ইনিংসের দমকা হাওয়ায় উড়ে গেছে ইংল্যান্ড। সেই হাওয়া এতোটাই উত্তাল যে শিরোপা ধরে রাখার মিশন থেকেই একরকম ছিটকে যেতে হলো ইংলিশদের।
’৯২ বিশ্বকাপ সেমিতে তখনকার বৃষ্টি আইনের সুযোগে ইংলিশদের সামনেই কপাল পুড়ে প্রোটিয়াদের। ওই ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দেবে এই জয়। ক্লাসেন-ইয়ানসেনের তান্ডবলীলার দিন প্রোটিয়ারা করে ৩৯৯ রান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এতো রান আগে কেউ কখনো করেনি। প্রোটিয়ারা ম্যাচ জেতে ২২৯ রানের ব্যবধানে। ইংলিশরা এতো রানের ব্যবধানেও আগে কখনো হারেনি।
এমন চিত্রনাট্যের রচয়িতা হেইনরিখ ক্লাসেন। এই ম্যাচের নায়ক অর্জনের পুরস্কার নেওয়ার সময় শোনান পেছনের গল্প, ‘এখানে প্রচণ্ড গরম ছিল। এতোটাই যে আপনার সব শক্তি শুষে নেয়। আমরা শক্তি জমিয়ে রাখতে চাচ্ছিলাম। আমি আর মার্করাম কথা বলছিলাম। ওদের দেখে মনে হচ্ছিল বেশ চাপে আছে। আমরা যদি আরও দুই-তিন ওভার টিকে থাকি, তাহলে ওদের ভেঙে ফেলতে পারব। এরপর দুটি উইকেট পড়ে যায়। ওরা খেলায় ফিরে আসে। চাঙাও হয়ে ওঠে। তখনও আমি মার্কোকে একই কথা বলছিলাম। দুজন শুধু কিছুক্ষণ টিকে থাকলেই হবে। ওরা শারীরিকভাবে ভেঙে পড়বে। তখনই আমরা সুযোগ নেব। আর শেষ অবধি সেটাই হয়েছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার জয়রথে ফিরে আসার পেছনে মার্কো ইয়ানসেনের কৃতিত্ব স্বীকার না করে উপায় নেই। ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের পর বল হাতেও ২টি উইকেট শিকার করেন ইয়ানসেন। ক্লাসেনের ইনিংস নিয়ে মার্কো বলেন, ‘ক্লাসেনের তখন ৮১ রান। গরম ও আদ্রতায় সবাই হাশফাঁস করছি। ক্লাসেনের প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছিল। আমি শুধু ওকে বলেছিলাম আর যাই করো সেঞ্চুরি না করে যেতে পারবে না। মাত্র কয়েকটা শট খেললেই হয়ে যাবে। ভাগ্যবশত সে আমার কথা শোনে। ওর সেঞ্চুরিতে আমি খুবই খুশি।’
ম্যাচসেরার পুরস্কার নেওয়ার সময় এই ইনিংসটিকে ‘জীবনের সেরা ইনিংস’হিসেবে দাবী করেন ক্লাসেন।
