ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজাতে ৭ অক্টোবর থেকে অব্যাহত বিমান ও কামান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। দুই সপ্তাহ পার হলেও যুদ্ধ থামার কোন লক্ষণ নেই অঞ্চলটিতে।
এমনকি আশ্রয়কেন্দ্র, স্কুল ও হাসপাতালেও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে করে প্রতিনিয়ত অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটিতে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।
কিন্তু ইসরায়েলের কঠোর অবরোধের কারণে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খাবার, পানিসহ চিকিৎসা সামগ্রী আসতে পারছে না অঞ্চলটিতে। এতে করে গাজার হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে মানবিক বিপর্যয়। চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে স্থান সংকট। এতে করে হাসপাতালের মেঝেতেই অপারেশনে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকরা।
ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে পা দেয়ার সাথে হামলা আরও তীব্র করেছে ইসরায়েল বাহিনী। গত ২৪ ঘন্টায় বাহিনিটির হামলায় গাজায় অন্তত ৪০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছে, আহত হয়েছে হাজারখানেক।
এমন অবস্থায় প্রতিনিয়ত বিশাল পরিমাণে রোগী আসায় হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসে মধ্য গাজার আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে দৃশ্য। মর্গে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাইরে একটি উঠানে স্তুপ করে রাখা হয়েছে মৃতদেহগুলো। এমনকি দ্রুত শেষ হয়ে আসছে কাফনের কাপড়।
এছাড়া হাসপাতালের ভেতরে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জামের অভাবের মধ্যেই আহত এবং গুরুতর আহতদের বাঁচানোর জন্য লড়াই করছেন চিকিৎসকরা।
আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের একজন কর্মী জানান, “ভোরের পর থেকে আমরা এখানে রয়েছি এবং মৃতদেহ দিয়ে হাসপাতালের আঙিনা সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরের মর্গ ও মৃতদেহের রেফ্রিজারেটরগুলো ও পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "আমাদের কাছে মৃতদেহের জন্য পর্যাপ্ত কাফনের ব্যবস্থা নেই কারণ নিহতের সংখ্যাটা অনেক বেশি।“
বিবিসি সাংবাদিক জানায়, গাজার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের অবস্থাও শোচনীয়। একজন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েই অপেক্ষমান পরবর্তী রোগীর কাছে যাওয়ার জন্য দৌড়াচ্ছিলেন চিকিৎসকরা। দিনের ১৬-১৭ ঘণ্টা এভাবেই হামলার মাঝেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
গাজা শহরের তেল আল-হাওয়া এলাকার আল-কুদস হাসপাতালে, ২৩ জন ডাক্তার ও নার্সের একটি দল ৫০০ জনেরও বেশি লোকের চিকিৎসা করার সময় কাছাকাছি বিল্ডিংগুলোতে বোমা হামলা ঘটে বলে বিবিসিকে জানান হাসপাতালটির একজন চিকিৎসক।
গত শনিবার (২১ অক্টোবর) গাজাতে ২০টি ত্রাণের ট্রাক প্রবেশ করলেও তা পর্যাপ্ত সরবরাহ নয় বলছেন বিশেষজ্ঞরা। গাজা জুড়ে হাসপাতালগুলি চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
এছাড়া কিছু খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ করা সত্ত্বেও, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় কোনো জ্বালানি প্রবেশ করেনি। হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুতের জন্য জ্বালানি চালিত জেনারেটরের উপর নির্ভর করছে। কিন্তু সেখানেও জ্বালানি রয়েছে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার।
এতে করে মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে হাসপাতালগুলোতে ইনকিউবেটরে থাকা প্রিম্যাচিউর নবজাতক।
