উৎসবের আমেজ দক্ষিণ চট্টগ্রামে

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:৩৫ এএম

আগামী শনিবার বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন শেষে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরিয়ান ইপিজেড মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগমন ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

জনসভা উপলক্ষে নৌকার আদলে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। ৯৬ ফুট লম্বা ও ৪৮ ফুট প্রশস্ত এ মঞ্চে একসঙ্গে বসতে পারবেন ২৫০ জন। এ ছাড়া আয়োজন ঘিরে আগত দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা ক্যাম্প, গণশৌচাগার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দেশের প্রথম টানেল নির্মাণে অনন্য ভূমিকা রাখায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আনোয়ারা-কর্ণফুলীর রাস্তায় রাস্তায় তোরণ, ফেস্টুন ও ব্যানার টানিয়েছেন জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

জেলা আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন ও প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে জেলার ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আলাদা পরিবহনব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগামী শনিবার ভোর থেকে এই যাত্রা শুরু হবে। ঢাকার ‘কলরেডি’ কোম্পানি মাইক ও শব্দযন্ত্র নিয়ে আসছে জনসভায়। সভাস্থলে এলইডি মনিটরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যও প্রচার করা হবে।

তবে আগে জনসভার সময় ছিল বেলা ১টায়। এখন সময় পরিবর্তন করে সকাল ১০টায় হওয়ায় জনসমাগম নিয়ে কিছুটা ভাবনায় পড়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তারপরও ১০ লাখ মানুষের জমায়েত হবে বলে আশা করছেন তারা। এ জনসভার আয়োজন করছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ।

দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি দিদারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন ও নেত্রীর জনসভাকে সফল করতে আমাদের আয়োজনের কোনো কমতি নেই। দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে জনসভায় আলাদা পরিচয় বহন করবে যুবলীগ। আশা করছি, লাখ লাখ মানুষের সমাগমে মুখর হয়ে জনসভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হবে।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পতেঙ্গা প্রান্তে বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন শেষে আনোয়ারার কেইপিজেড মাঠের জনসভায় ভাষণ দেবেন। তার আগমন ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে খুশির জোয়ার বইছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। ২৫০ আসনের নৌকার আদলে মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। তবে কারা বসবেন, তা এখনো ঠিক হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এরই মধ্যে সাদাপোশাকের নিরাপত্তা বাহিনী মাঠে কাজ করছে। এ ছাড়া এসএসএফের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন করে আরও কিছু নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে চট্টগ্রামবাসী প্রস্তুত জানিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জনসভায় এসে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের জন্য চিকিৎসা ক্যাম্প ছাড়াও দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত গণশৌচাগার ও সুপেয় পানিসহ নানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত