রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, বিনা কারণে শিকল টেনে ট্রেন থামানোর জরিমানা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত খসড়া রেলওয়ে আইনের বিধান অনুযায়ী কোনো যাত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে বা আইনগত কারণ ছাড়া শিকল টেনে তার সুবিধাজনক স্থানে ট্রেন থামান তা হলে তিনি অনূর্ধ্ব এক মাসের কারাদন্ড বা অনধিক দুই হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, রানিং ট্রেনে হোস পাইপ বিচ্ছিন্ন এবং শিকল টেনে ট্রেন থামানো প্রতিরোধকল্পে বিভিন্ন ট্রেনে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত আছে। ট্রেনে শিকল টানার শাস্তি হিসেবে বর্তমানে ২০০ টাকা অর্থদ-ের বিধান রয়েছে। সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১৪৩টি দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। রেলপথে লেভেল ক্রসিং গেটে অবৈধভাবে সড়কযানের অনুপ্রবেশের কারণে ২৬ জন এবং অন্যান্য দুর্ঘটনায় একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। ২৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা এগারসিন্ধুর গোধূলি ট্রেনের সঙ্গে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ১৮ জনের প্রাণহানি হয়।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমানে বিআরটিসির অধীনে ১ হাজার ৩৫০টি বাস পরিচালিত হচ্ছে। বান্দরবান ছাড়া দেশের ৬৩টি জেলায় এ বাস চলাচল করে। বিআরটিসির জন্য সিএনজি একতলা এসি বাস সংগ্রহ শীর্ষক একটি প্রকল্প গত ৫ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদন হয়েছে বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী জানান, চলতি অর্থবছরের (২০২৩-২৪) জুলাই হতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮১ হাজার টন কাঁচাপাট ও ১ লাখ ৭৮ হাজার টন পাটজাত দ্রব্যাদি রপ্তানি করা হয়েছে। গত অর্থবছরে (২০২২-২৩) অর্থবছরে ২ দশমিক ২৭ টন কাঁচাপাট ও ৫ দশমিক ৮৭ লাখ টন পাটজাত দ্রব্যাদি পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে।
দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা কাজ করছে - প্রধানমন্ত্রী : বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রোধ করতে একটি দুষ্টচক্র দেশে-বিদেশে সরকার এবং দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরও জানান, ওই দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো কাজ করছে।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান তিনি। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদেশ সফররত প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, পদ্মা রেল লিংকসহ বিভিন্ন অবকাঠামো বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার মুকুটে নতুন নতুন স্বর্ণপালক যুক্ত করেছে। বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে দেশের জনগণ বহুমুখী অর্থনৈতিক সুফল পাচ্ছেন।
বর্তমান সরকার বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, বাংলাদেশের ইতিবাচক অগ্রযাত্রায় গতিরোধ করতে বহির্বিশ্বে ও বাংলাদেশে অপপ্রচারকারীদের একটি দুষ্টচক্র সরকার এবং দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা কাজ করছে। তিনি আরও জানান, দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার মোকাবিলাসহ বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার জন্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং অনলাইন মিডিয়ায় নিয়মিতভাবে তথ্যবহুল ও বস্তনিষ্ঠ সংবাদ, প্রবন্ধ ও নিবন্ধ প্রকাশের এবং কনটেন্ট প্রচারের বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহ নানা রকম সভা বা আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সচেতন করে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হীন কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে প্রবাসে জনমত গঠন করা হচ্ছে।
ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলেছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান জানান, যেসব অসত্য বা বিকৃত খবর ও গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হয় সেগুলো চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আসা অতিথিদের সঙ্গে আলোচনা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও মিডিয়াসহ বিশ্ববাসীকে অবহিত করা হচ্ছে। গুজব ও অপপ্রচাররোধে ১৫টি প্রতিবেদন, ৭২টি তথ্যবিবরণী এবং একটি প্রেসনোট জারিসহ সাতটি ফিচার তথ্য অধিদপ্তর থেকে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেযাদ আগামী ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর প্রকল্পের প্রথম পর্যায় উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ জুলাই ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ দশমিক ৯১ কোটি টাকা। সরকার এবং রাশান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা চুক্তি এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় ঋণচুক্তির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
