ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, সিটি করপোরেশনভুক্ত হওয়া নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে পরিকল্পিতভাবে খেলার মাঠ তৈরি করা হবে। গতকাল বুধবার দুপুরে ডেমরা এলাকার মেন্দিপুর খেলার মাঠ পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারেই আমি বলেছিলাম, ছোট হোক বা বড় হোক, প্রতিটি ওয়ার্ডেই ন্যূনতম একটি করে খেলার মাঠ বা উদ্যান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে। সে পরিপ্রেক্ষিতে আমরা অনেক জায়গা দখলমুক্ত করে ১০টি ওয়ার্ডে নতুন করে খেলার মাঠ সৃষ্টি করেছি। ডিএসসিসির ৭০ নম্বর ওয়ার্ড একসময় ইউনিয়ন পরিষদের আওতাভুক্ত ছিল। নতুন যে ১৮টি ওয়ার্ড সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ৭০ নম্বরে ওয়ার্ড তারই একটি। এ ওয়ার্ডেও খেলার মাঠ তৈরি করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দখলদারদের তালিকা করে তেমন সুফল পাওয়া যায় না। নতুন নতুন দখলদার সৃষ্টি হয়। আমরা খালগুলো পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম দফাতেই একটা বড় অংশ দখলমুক্ত করি। কিন্তু দেখা যায় যে, ভূমিদুস্যরা কিন্তু থেমে থাকে না। তারা কিন্তু সুযোগের সন্ধানে থাকে। আবার দখল করার চেষ্টা করে। সেজন্য খাল উদ্ধারে আমরা দীর্ঘস্থায়ীভাবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় এগোচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের চারটি খাল (শ্যামপুর, জিরানি, মা-া ও কালুনগর খাল) নিয়ে যে প্রকল্প দিয়েছেন, আমরা তা বাস্তবায়নে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’
ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুরূহ। কারণ ৫০ বছর ধরে যেটা অপরিকল্পিতভাবে হয়ে আসছে, সেটা খুব দ্রুত যে সম্পন্ন হবে তা আশা করা যায় না। একদিকে যে নতুন বাসাবাড়ি, স্থাপনা হচ্ছে তারা যেন নিজস্ব সোকওয়েল ও সেপটিক ট্যাংক স্থাপন করেন, সেজন্য আমরা তাদের অনুপ্রাণিত করছি। যাতে করে তারা নিজেদের সেপটিক ট্যাংক এবং সোকওয়েল করে সেজন্য অনেক ক্ষেত্রে কঠোরও হচ্ছি। কারণ, আপনারা জানেন যে, পয়ঃপ্রণালি বা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এখনো ওয়াসার কাছে। তারা কিন্তু এখন পর্যন্ত পয়ঃপ্রণালি নর্দমা তৈরি করতে পারেনি। আদৌ কবে নাগাদ তৈরি করতে পারবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমাদের যে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা রয়েছে, সেটার পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেক বাসাবাড়ি, স্থাপনায় নিজস্ব সেপটিক ট্যাংক এবং সোকওয়েল থাকলে সেখান থেকে যে পানি আসবে সেটা পয়ঃবর্জ্য হবে না। পরিষ্কার পানি বের করা হবে।’
এর আগে মেয়র তাপস নীলক্ষেতে ঢাকা ওয়াসার গলিতে মরিয়ম বিবি শাহি মসজিদ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর টিকাটুলী বাস স্টপেজ ও হাটখোলা মন্দিরের বিপরীত পাশে সংবাদপত্র বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী আশিকুর রহমান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক, ২ নম্বর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সোয়ে মেন জো, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী বোরহান উদ্দিন, কাউন্সিলরদের মধ্যে ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এবং সংরক্ষিত আসনের সেলিনা খান প্রমুখ।
