দীর্ঘ ৭৮ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। অস্ত্রোপচার শেষে তাকে করোনারী কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। এই অস্ত্রোপচারের ফলে লিভার জটিলতা কিছুটা কমবে। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য কিছুটা সময় পাওয়া গেল।
বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) রাতে দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিএনপি গঠিত মেডিকেল টিমের সদস্য ও বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক হারুণ অর রশীদ।
তিনি বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় হাসপাতালে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর অস্ত্রোপচার শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। সাড়ে সাতটায় সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।’
হারুণ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস জটিলতার কারণে ফুসফুসে পানি জমা ও রক্তক্ষরণ বন্ধে ট্রান্সজুগলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোরটোসিসটেমিক সান্ট (টিপস) পদ্ধতি শুরু করেন মার্কিন চিকিৎসক দল। সন্ধ্যা ৬টায় তারা অস্ত্রোপচার শুরু করেন। শেষ করেন সাড়ে সাতটায়।’
এর আগে গতকাল বুধবার রাতে ঢাকায় পৌঁছেন মার্কিন তিন চিকিৎসক। তারা হলেন- জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. হামিদ আহমেদ আব্দুর রব, ডা. জেমস পিটার অ্যাডাম হ্যামিলটন ও ডা. ক্রিসটোস স্যাভাস জর্জিয়াডেস। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রফেসর হামিদ রাব জন হপকিন্সের কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট প্রোগ্রামের পরিচালক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। আর সহযোগী অধ্যাপক জেমস পিটার হ্যামিলটন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলোজি বিভাগের পরিচালক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। ডা. ক্রিসটোস স্যাভাস জর্জিয়াডেস ইন্টারভেনশনাল অনকোলজি বিভাগের পরিচালক ও রেডিওলোজি অ্যান্ড রেডিওলোজিক্যাল বিশেষজ্ঞ। রাতেই দুজন চিকিৎসক খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণেএভারকেয়ার হাসপাতালে যান।
তারা মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর আজ দুপুরে ফের তিন চিকিৎসক এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। আরেকদফা মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে ‘টিপস’ প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, গত ৯ই আগস্ট থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া।
