রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গাইনি বিভাগের জন্য স্থাপন করা অস্ত্রোপচার কক্ষ (অপারেশন থিয়েটার) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে আড়াই মাসেরও বেশি সময় আগে। অথচ রোগীদের অস্ত্রোপচারের কাজে ব্যবহারের জন্য এটি এখনো চালু করা যায়নি। ফলে কাজে আসছে না ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা নতুন এ অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। অন্যদিকে পুরাতন একটি ওটিতেই কোনোরকম চলছে গাইনি বিভাগের অস্ত্রোপাচারের কাজ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ওটি চালু হলে একদিকে যেমন একসঙ্গে একাধিক রোগীর অস্ত্রোপচার করা যাবে, অন্যদিতে সেই সঙ্গে চালু হবে লেপারেসকপি ও সফিস্টিকেটেড ওটি।
রামেক হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি অস্ত্রোপচার হয় গাইনি অপারেশন থিয়েটারে। কিন্তু একটি মাত্র ওটিতে এসব অস্ত্রোপচার হওয়ায় রোগীদের দীর্ঘ সিরিয়াল ধরে অপেক্ষা করতে হয়। এমন বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেতে ২০২২ সালে উদ্যোগ নেওয়া হয় আলাদা নতুন একটি গাইনি অপারেশন থিয়েটার স্থাপনের।
রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি অপারেশন থিয়েটারের জন্য ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে কাজ শুরু হয়। পরে চলতি বছরের জুলাই মাসে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। এতে ব্যয় হয় ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের নবনির্মিত অপারেশন থিয়েটার ঘুরে দেখা গেছে, ওটির জন্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ সরঞ্জাম সেখানে রাখা আছে। তবে কোনোটি লাগানো তো কোনোটি প্যাকেটবন্দি। ওটির প্রবেশপথের দেয়ালে লাগানো আছে নামফলক। সেখানে লেখা আছেÑ এটি উদ্বোধন করা হয়েছে ২ আগস্ট ২০২৩। অর্থাৎ উদ্বোধনের আড়াই মাস পেরিয়ে গেছে। তবে এখনো চালুই হয়নি।
এদিকে একটি মাত্র ওটি থাকায় রোগীর পাশাপাশি চিকিৎসকরাও পড়ছেন বিপাকে। এ প্রসঙ্গে রামেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘আমাদের নতুন ওটি চালু হয়নি। আমরা পুরাতন ওটিতে কষ্ট করে কাজ করছি। নতুন ওটি চালু হলে অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। এখন দিনে ৫০-৬০টি অপারেশন হচ্ছে একটা ওটিতে। কিন্তু নতুন ওটি হলে সেখানে তিনটি ওটি রুম পাওয়া যাবে। তখন রোগীর চাপটাও কমে যাবে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এ বি এম হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমরা ওটির নির্মাণকাজ শেষ করেছি ২০২৩ সালের জুলাই মাসে। এটি এখন তাদের (হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের) যন্ত্রাংশের জন্য চালু হচ্ছে না। আমাদের সব কাজ শেষ। ওখানে আমাদের আর কাজ নেই।’
তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ বলছে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবেই নতুন ওটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। আগামী মাসের মধ্যেই এটি চালু হতে পারে।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনালের এফএমএ শামীম আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের গাইনি বিভাগের ওটি এখনো চালু হয়নি। এটির শুধু স্ট্রাকচার (অবকাঠামো) নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে, যা গণপূর্ত বিভাগ হ্যান্ডওভার (হস্তান্তর) করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের আগের পরিচালক এই ওটির (নতুন নির্মিত) জন্য নতুন কিছু ডিমান্ড করেননি (চাহিদা জানাননি)। আমাদের পুরাতন ওটির লাইটসহ সবকিছু বেশ পুরনো। সেগুলো নতুন ওটিতে আনতে গিয়ে দেখা যায়, এগুলো আনা যাবে না। তাই আমি আবারও নতুন কিছু জিনিস ডিমান্ড করেছি (চাহিদার কথা জানিয়ে চিঠি)। এসি, লাইট, টেবিল, এনেসথেসিয়া মেশিনসহ ৫০ শতাংশ মেশিন (যন্ত্র) রিসিভ (গ্রহণ) করেছি। বাকি মেশিন আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পেয়ে যাব। আশা করছি আগামী মাসের মধ্যেই নতুন ওটি চালু করতে পারব।’
