যুদ্ধবিরতি ছাড়া বন্দিদের মুক্তি দেবে না হামাস

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪৯ এএম

হামাস যোদ্ধাদের হাতে বন্দি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে গাজায় যুদ্ধবিরতি হওয়া দরকার বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির এক কর্মকর্তা। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বেশিরভাগ দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা যখন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জোরালো করেছে তখনই এমন ঘোষণা এলো হামাসের পক্ষ থেকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হামাসের নেতারা এর আগে কাতারের কাছে জিম্মি হস্তান্তরের আশ্বাস দিলেও রাশিয়ার সফরের পর পাল্টে ফেলেছে সুর।

হামাস গত ৭ অক্টোবর হামলা চালিয়ে ১ হাজার ৪০০ জনকে হত্যার পাশাপাশি ২২৪ ইসরায়েলিকে ধরে নিয়ে গিয়ে গাজায় জিম্মি করে রেখেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল সেনাবাহিনী। নজিরবিহীন ওই হামলা চালানোর পর থেকেই ইসরায়েল এর পাল্টা জবাবে গাজায় অবিরাম বিমান হামলা চালাচ্ছে। মাঝে মাঝে সীমিত আকারে স্থল অভিযানও চালাচ্ছে তারা। হামাসকে নির্মূল করা এবং জিম্মিদের খোঁজে বের করে তাদের উদ্ধার করা ইসরায়েলের লক্ষ্য।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিন সপ্তাহ ধরে চলা ইসরায়েলের নির্বিচার বিমান হামলায় সমুদ্রতীরবর্তী ছোট এ উপত্যকায় এখন পর্যন্ত ৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ১ হাজারের বেশি মরদেহ পড়ে থাকার অর্থ হলো গাজায় মৃতের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

ইসরায়েল বলেছে, তারা একটি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং আরব দেশগুলো এই অভিযান শুরু করতে বিলম্বের আহ্বান জানিয়ে আসছে। কারণ, এমন অভিযানে ঘন জনবসতিপূর্ণ গাজায় বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা অনেক বেড়ে যেতে পারে এবং যুদ্ধ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গাজা থেকে এই জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় আছে ইসরায়েল। গাজায় যে স্থল অভিযান চালানোর ছক কষছে ইসরায়েলি বাহিনী, সেটি এখনো তারা শুরু করেনি। তবে বুধবার রাতে ট্যাংক নিয়ে চালানো হামলা পরবর্তী ধাপের যুদ্ধ শুরুরই প্রস্তুতি বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।

গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক জরিপের ফলে দেখা গেছে, হামাসের হাতে জিম্মিদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ইসরায়েলিদের অর্ধেকই এখন গাজায় স্থল অভিযান না চালানোর পক্ষে মত দিয়েছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই রাশিয়া গিয়েছে হামাসের একটি প্রতিনিধি দল। গাজায় বন্দি রুশ নাগরিকসহ বিদেশি জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে আলোচনা করতেই গত বৃহস্পতিবার মস্কোয় যায় দলটি। এই প্রতিনিধিদলের এক সদস্য বলেন, ইসরায়েল থেকে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো যাদের গাজায় বন্দি করে নিয়ে গিয়েছিল তাদের সবাইকে খুঁজে বের করে মুক্তি দিতে কিছু সময় প্রয়োজন।

হামাসের প্রতিনিধিদলের সদস্য আবু হামিদ বলেছেন, হামাস এ পর্যন্ত চার জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। তা ছাড়া, যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই বেসামরিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছা হামাস প্রকাশ করেছে। তবে তিনি বলেন, এই কাজ সম্পন্ন করতে শান্ত পরিবেশ প্রয়োজন।

গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় জিম্মিদের প্রায় ৫০ জনই নিহত হয়েছে বলে কাসাম ব্রিগেডের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন হামিদ। যে দাবি যাচাই করে দেখতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইসরায়েলের অবিরাম হামলায় এখন পর্যন্ত গাজায় ৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। সাঁজোয়া ট্যাংক ও বুলডোজারের বহর নিয়ে সীমানা পেরিয়ে গাজার বিভিন্ন স্থানকে নিশানা করে বুধবার রাতজুড়ে হামলাও চালিয়েছে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত