পুলিশের পোশাকে বাসে আগুনের অভিযোগ

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:৪০ এএম

বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশ ঘিরে সহিংসতার পর গতকাল শনিবার বিকেল ৫টায় পুরো পল্টন এলাকা ছিল পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। নয়াপল্টন-কাকরাইল সংযোগ সড়কের পাশেই তখন অবস্থান করছিলেন পুলিশের শতাধিক সদস্য। ঠিক তার পেছনেই ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল। যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশ সদস্যদের বহন করে আনা ঢাকা-কুমিল্লা সড়কে চলাচল করা এশিয়া পরিবহনের একটি বাস। যার নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-৬৩০৪। দাঁড়িয়ে থাকা এই বাসটিতে পুলিশের পোশাকে থাকা দুজন আগন্তুক পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেছেন চালক মনির হুসেন।

তবে গতকাল রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেছেন, এ ঘটনায় পুলিশ জড়িত নয়। যারা সারা দিন যানবাহনে আগুন দিয়েছে, তারাই কাকরাইলে ওই বাসে আগুন দিয়েছে।

গত শুক্রবার রাজধানীর শনির আখড়া থেকে রিক্যুইজিশন করে বাসটি নিয়ে আসে পুলিশ। আর সেই কারণেই প্রথাগত নিয়ম অনুযায়ী একদিন করতে হয় পুলিশ সদস্যদের পরিবহনের কাজ।

গতকাল বাসটির চালক প্রথমে ৪০ জন পুলিশ সদস্যকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পাশে আওয়ামী লীগের সমাবেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে নিয়ে যায়। পরে নতুন করে আরও ৪০ জন পুলিশ সদস্যকে নয়াপল্টনে এসে নামিয়ে দেন। বাসটি নাইটিঙ্গেল মোড়েই রাখার কথা বলে নেমে যান পুলিশ সদস্যরা। আগুন লাগানোর আগেও পুলিশের এক প্রতিনিধি ফোন করে বাসটি সেখানেই রাখতে বলেন বলে অভিযোগ চালকের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৫টার দিকে মোটরসাইকেলে করে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জ্যাকেটের মতো দেখতে পোশাক পড়া দুজন ব্যক্তি ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনে আসেন। তারা বাসটিতে আগুন দিয়ে দ্রুত জায়গা ত্যাগ করে। তখন বাসটির চালক বাধা দিতে গেলে তাকে ঘুসি মেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে কাকরাইল সড়ক ধরে চলে যায় ওই দুজন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাসে লাগা আগুন মুহূর্তেই পাশে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারে লেগে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। হাসপাতালসহ সড়কের পাশে থাকা ভবন থেকে পানি ও অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন ভবনের নিরাপত্তাকর্মীরা। তবে আগুন লাগার এক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে আসেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

আগুনে বাসটি পুড়ে গেলেও যে পুলিশ সদস্যদের পরিবহন করে নিয়ে এসেছিলেন তারা কেউই আর আসেননি এবং খোঁজও নেননি বলে অভিযোগ বাসের চালক ও ব্যবস্থাপকের।

কারা বাসটিতে আগুন লাগাল এমন প্রশ্নের জবাবে পল্টন থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কারা আবার যারা আজকে পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছে তারা। বিএনপি-জামায়াত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। বাসে আগুনও তারাই দিয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত