যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়া। যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না সে কথাও আবার উল্লেখ করেছেন তিনি।
গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে বৈঠকে আজরা জেয়া এ কথা জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এই বৈঠক হয়েছে। খবর বাসস
বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদারসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে সালমান এফ রহমান ও আজরা জেয়া আলোচনা করেন। তারা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন। ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন এবং তাদের জন্য মার্কিন সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন আন্ডার সেক্রেটারি আজরা।
বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিনিধিরা দুই বছর ধরে সরকারের নানা পর্যায়ে বৈঠক করেছেন। ওয়াশিংটনে শুক্রবারের বৈঠকটি ছিল সর্বশেষ বৈঠক। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে চাপ দেওয়ার অংশ হিসেবে গত সেপ্টেম্বরে ভিসানীতি প্রয়োগের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। গত মে মাসে এই ভিসানীতি ঘোষণা করেছিল, যেখানে বলা হয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচনে যে বাধা দেবে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র।
নির্বাচন ইস্যুতে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উভয়ই মনে করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের একমাত্র উপায় হচ্ছে নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আক্তার এবং বাংলাদেশ দূতাবাস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
