বিএনপির হামলা পূর্বপরিকল্পিত

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৩, ০১:৪৮ এএম

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মহাসমাবেশ থেকে বিএনপি পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কথা বলে এলেও তারা তাদের রাজনীতির যে সন্ত্রাসী ধারা সেই ধারা বাস্তবায়নে গোপনে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা তাদের ভয়ংকর রাজনীতির ধারা, পুরনো চেহারায় ফিরে আসার জন্য সময় নিচ্ছিল। সময় মতোই তারা তাদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের পথ বেছে নিয়েছে।

গতকাল রবিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ ছাড়া রবিবার বিএনপির হরতালের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারা দেশে শান্তি সমাবেশ পালন করেছে আওয়ামী লীগ। সকালে ঢাকার বিভিন্ন মহল্লায় সতর্ক পাহারায় ছিল ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকেই বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকে। বেলা ৩টায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিএনপি চ্যালেঞ্জ করেছে। প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা মানে দেশের বিচারব্যবস্থাকে তারা অপমান করেছে। গত দুদিন তারা কী করেনি। বিএনপি যে কোনো উপায়ে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তিনি বলেন, অত্যন্ত ক্ষোভ ও বেদনার সঙ্গে জানাতে হচ্ছে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট আবারও নৃশংস সন্ত্রাসী কর্মকা-ে লিপ্ত হলো। সুষ্ঠু স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশকে তারা বিনষ্ট করছে। এগুলোই ছিল তারেক রহমানের টেকব্যাক। 

গত শনিবার ও রবিবারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংলাপের পথ বিএনপি রুদ্ধ করে দিয়েছে বলেও দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এখন আর সে সুযোগ নেই। আমরা আগ বাড়িয়ে সংলাপ নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা করছি না। আওয়ামী লীগ চায়, বিএনপি নির্বাচনে আসুক।

নির্বাচনকালের সরকারে বিএনপির কাউকে রাখা হবে কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইলেকশন টাইমে যদি বাইরের কাউকে যুক্ত করাও হয়, তাহলেও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের করব। তাদের তো কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। পদত্যাগ করেছে’।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, আমরা থাকব। আমি তো আছি। বিএনপি কোথায়? আন্দোলনে? তারা এখন ষড়যন্ত্রমূলক সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। তারা তাদের দোসর জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে যা করেছিল, এখনো সেই অন্ধকারের পথে তারা পুনরায় যাত্রা শুরু করবে। তারা গতকাল দেশ-বিদেশে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছে। তাদের ভয়ংকর চেহারা উন্মোচন হয়েছে।

জামায়াত তাদের সমাবেশের পর সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছে। তাহলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের কোনো আঁতাত হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই দেশের বাঘা বাঘা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করল যে সরকার, সে সরকারের সততা নিয়ে আপনি প্রশ্ন তুললেন?’

ওবায়দুল কাদের বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী যার যার অবস্থান থেকে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিপক্ষে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।

ওবায়দুল কাদের জানান, আগামী ৪ নভেম্বর মেট্রোরেল উদ্বোধন উপলক্ষে ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে ভাষণ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম; সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত