গত ৭ অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হামলার সূত্র ধরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অব্যাহত বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ করে যাচ্ছে ইসরায়েল। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দখলদার ইসরায়েলের বর্বর এই হামলায় গাজায় নিহত হয়েছে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ যাদের মধ্যে অর্ধেকই শিশু।
চলমান ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের প্রভাব পড়েছে সারা বিশ্বে। গাজায় ইসরায়েলি এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। এরই প্রতিফলন দেখা গেল রাশিয়ার বিমানবন্দরে।
রাশিয়ায় একটি বিমানবন্দরে ইসরায়েলের বিমান অবতরণের খবরে হামলা চালিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ইসরায়েল থেকে একটি বিমান পৌঁছানোর পর ওই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা ইহুদিবিরোধী নানা স্লোগান দেন এবং তেল আবিব থেকে আসা লোকজনকে খুঁজতে থাকেন।
এমনকি বিমানবন্দরের বাইরে গাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও ইসরায়েলি পাসপোর্টধারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়। রোববার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাশিয়ার দাগেস্তান বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটে।
সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আল জাজিরা ও বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বিমান অবতরণের খবরে দাগেস্তান বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছেন বিশাল জনতা। এ সময় বিক্ষুব্ধদের অনেকে ইহুদিবিরোধী স্লোগান দেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষুব্ধ এসব মানুষের মধ্যে অনেকে দৌড়ে রানওয়েতে চলে যান এবং বিমানটিকে ঘিরে ফেলেন। তবে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে আসার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার এভিয়েশন এজেন্সি রোসাভিয়াসিয়া।
এছাড়া হামলার এই ঘটনার পর বিমানবন্দরটি আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ‘অস্থায়ীভাবে বন্ধ’ থাকবে বলে জানিয়েছে রোসাভিয়াসিয়া। হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
এদিকে বিমানবন্দরে ইহুদীদের ওপর হামলার পর রাশিয়াকে ‘সমস্ত ইসরায়েলি নাগরিক এবং সমস্ত ইহুদিদের’ রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলেছে, ইহুদি ও ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্ররোচনার বিরুদ্ধে রাশিয়াকে অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিবিসি জানায়, কাস্পিয়ান সাগরের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত উত্তর ককেশাসের প্রধানত মুসলিম রাশিয়ান প্রজাতন্ত্র দাগেস্তানে প্রায় ৩১ লাখ মানুষ বসবাস করে। দাগেস্তান সরকার বলেছে, বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দাগেস্তান সরকার টেলিগ্রামে নির্দেশ দিয়েছে যে, ‘বিমানবন্দর পরিচালনায় বাধা দেওয়ার মতো অবৈধ কাজ চালিয়ে যাবেন না এবং বিমানবন্দরের কর্মচারীদের কাজে হস্তক্ষেপ করবেন না।’
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মস্কোতে অবস্থানরত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রাশিয়ান কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে কাজ করছেন। ইসরায়েল ‘যেকোনও জায়গায় ইসরায়েলি নাগরিক এবং ইহুদিদের ক্ষতি করার চেষ্টাকে গুরুতরভাবে দেখে’ বলেও দাবি করেছে ওই মন্ত্রণালয়।
