ইতিহাসের অংশ হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া বিরাট কোহলির। শুবমান গিল হয়েছেন সেঞ্চুরি বঞ্চিত। তবে শ্রেয়াস আইয়্যার জমিয়ে তুলেন শেষ লগ্নে। এই তিন ব্যাটসম্যানের সবারই সুযোগ ছিল ব্যক্তিগত সংগ্রহটা তিন অংকের ঘরে নেওয়ার। কিন্তু কেউই পারেননি। তবে তাদের ব্যাটে ভর করে ভারত ৩৫৭ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে।
এক যুগ আগে থেকেই বলা হচ্ছিল, বিরাট কোহলিই হতে যাচ্ছেন পরের শচীন টেন্ডুলকার। এই শচীনের পাশে দাঁড়িয়েই ২০১১ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তরুণ কোহলি। এরপর বেলায় বেলায় অনেক দিন পার হয়েছে। কোহলি নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন অন্য এক উচ্চতায়। আর আজ তো ইতিহাসেরই অংশ হতে পারতেন ভারতের এই ব্যাটার। তবে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে কোহলি ফিরলেন ৮৮ রান করে।
যাদেরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত, সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক যুগ পর আরেকটি বিশ্বকাপে সেই ওয়াংখেড়েতে খেলতে নেমেছিলেন কোহলি। ওয়ানডেতে সর্বাধিক ৪৯ সেঞ্চুরির কীর্তি গড়ে শচিনের পাশে বসার অদৃশ্য একটা চাপ ছিল কোহলির ওপর। সেই চাপ সামাল দিয়ে খেলছিলেন দারুণ এক ইনিংস। কিন্তু তিন অংক যখন মাত্র ১২ রান দূরে, দিলশান মাদুশাঙ্কার বলে কি থেকে যেন ভুল করে বসলেন বিরাট। স্ট্রেইট ড্রাইভ ঠিকঠাক হলো না। বলটা চলে যায় পাথুম নিশাঙ্কার হাতে। শচীনের রেকর্ডে ভাগ বসানোর অপেক্ষাটা তাই দীর্ঘ হলো বিরাটের জন্য।
তার ঠিক আগেই শুবমান গিল সেঞ্চুরি মিস করেছেন। ৮ রান দূরে থাকতে তিনিও মাধুশাঙ্কার ফাঁদে পা দেন। টোকা মেরে থার্ড ম্যান দিয়ে তিনি সীমানা পাড় করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এজ হয়ে সেটা ধরা দেয় কুশল মেন্ডিসের হাতে।
তাদের বিদায়ের পর বিধ্বংসী হয়ে উঠেন শ্রেয়াস। দিন কয়েক আগে ভারতের একটি দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছিলেন পাকিস্তানের সাবেক দুই অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম ও মিসবাহ উল হক। সেটা ছিল শ্রেয়াসের ফর্মহীনতা। কথাটা বোধহয় তার কানেও পৌঁছেছিল। আর তাই তো তিনি আজ চালিয়েছিলেন তাণ্ডব। তার ব্যাট থেকে ৫৬ বলে আসে ৮২ রান। যেখানে ছয়টি ছক্কা ও তিনটি চারের মার।
উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কেএল রাহুল ২১ রানের বেশি করতে পারেননি। শেষ বেলায় রবীন্দ্র জাদেজা ৩৫ রান করেছেন। তাতেই সাড়ে তিনশো পাড় করে স্বাগতিকরা। যা আবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেঞ্চুরি ছাড়া সর্বোচ্চ রান। এর আগে এই রেকর্ড ছিল পাকিস্তানের। সেটা ২০১৯ বিশ্বকাপে নটিংহ্যামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেদিন তারা কোনো ব্যাটসম্যানই সেঞ্চুরি ছাড়া ৩৪৮ রান করেছিল।
শ্রীলঙ্কার হয়ে ৫ উইকেট শিকার করেছেন দিলশান মাধুশাঙ্কা। যদিও খরচ করেছেন ৮০ রান। এছাড়া দুশমান্থ চামিরা নিয়েছেন ১ উইকেট।
একটু পর ৩৫৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামবে শ্রীলঙ্কা।
