পাঁচ তারকা হোটেলে বসে নাশকতার পরিকল্পনা!

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:২৮ এএম

বিএনপি-জামায়াতের অবরোধের প্রথম দিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের তিন সদস্যকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে র‌্যাব বলেছে, তারা রাজধানীর গুলশানে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আত্মগোপন করে। সেখানে বসে ঢাকার অভিজাত এলাকায় বড় ধরনের নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু বুধবার গভীর রাতে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা নাশকতা পরিকল্পনার তথ্য পেয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধের প্রথম দিন নারায়াণগঞ্জের আড়াইহাজারে মহাসড়কে তাণ্ডব চালিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। সেদিনের অগ্নিসংযোগ, নাশকতা, সহিংসতা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ, হামলা-মারধরের পর উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করার পুরো দৃশ্য বিভিন্ন সিসি ক্যামেরা বিশ্লেষণ করেছে র‌্যাব। পরে তাদের শনাক্ত করা হয়। তারা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। ওই হামলার পরিকল্পনাকারীরা এবং জড়িতরা বেশিরভাগই গুলশানের পাঁচ তারকা হোটেলে অবস্থান করে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে র‌্যাব-১১’র একটি দল গুলশানের ওই হোটেল ঘিরে ফেলে। পরে সেখান থেকে ১০ জনকে ধরা হয়। পাঁচ তারকা হোটেলের কথা বললেও র‌্যাব হোটেলের নাম বলেনি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. শাকিল মিয়া (৪০), সাধারণ সম্পাদক মো. জুয়েল আহমেদ (৫২), সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান (৫৪), বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিউদ্দিন ভুইয়া (৫১), যুগ্ম সম্পাদক মো. শফিউদ্দিন ভুইয়া (৪৮), সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব (৫৩), উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান সেলিম (৪৮), আড়াইহাজার পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরমান মোল্লা (৪৬), আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. ইউসুফ আলী ভুইয়া (৬৯) ও আড়াইহাজার মাহমুদপুর ইউনিয়নের বিএনপির নেতা মো. মাসুম শিকারী (৪৫)।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা পাঁচ তারকা হোটেলে বসে বিভিন্ন এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা করেন। আড়াইহাজার ও আশপাশের এলাকায় মহাসড়কে নাশকতা, সহিংসতাসহ তিন পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন। শুধু তাই নয়, ওই মহাসড়কে তাণ্ডব চালিয়ে কয়েকশ দুষ্কৃতকারী ইটপাটকেল ছুড়ে যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটান। এরফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা নাশকতা ও সহিংসতা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জনজীবন বিপর্যস্ত করতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, ইট-পাথর, ককটেল, বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভয়ভীতি ও ত্রাসের সৃষ্টি করেন। ঢাকা-সিলেট মহসড়কে টায়ার পুড়িয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় তারা মহাসড়কে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও গণপরিবহনসহ বিভিন্ন যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। হামলা ও নাশকতার পর জড়িতরা রাজধানীর গুলশান ও আশপাশের এলাকার নামিদামি হোটেলে আত্মগোপনের জন্য অবস্থান করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত