খেলাধুলা উচ্ছন্নে কমনরুমে বসবাস

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৩, ১২:৪৬ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রী হলগুলোর কমনরুম ব্যবহৃত হচ্ছে নবীন শিক্ষার্থীদের আবাসনের বিকল্প হিসেবে। যেখানে পত্রিকা পড়া, টেলিভিশন দেখাসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা হওয়ার কথা, সেখানে দেখা যাচ্ছে নবীনদের গাদাগাদি করে থাকতে। এসব হলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও হচ্ছে না। ফলে হলের কমনরুমে থাকা লাখ লাখ টাকার ক্রীড়া সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে অযত্ন-অবহেলায়।

জাবিতে ছাত্রীদের আবাসিক হল রয়েছে আটটি। এর মধ্যে নবনির্মিত ফজিলাতুন নেছা হল চলতি বছরের জানুয়ারিতে চালু হলেও এখনো কমনরুম ও অভ্যন্তরীণ খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হয়নি। বাকি সাতটি হলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল, বেগম খালেদা জিয়া হল, শেখ হাসিনা হল, জাহানারা ইমাম হল, প্রীতিলতা হল, বেগম সুফিয়া কামাল হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব হলে কমনরুম থাকলেও সেগুলো বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য গণরুম ও পড়ার কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু প্রীতিলতা হলে মেয়েদের খেলার জায়গা হিসেবে পেপার রুম (পত্রিকা কক্ষ) বরাদ্দ হয়েছে। অন্য কোনো হলে অভ্যন্তরীণ খেলাধুলার ব্যবস্থা নেই।

অথচ হলগুলোতে রয়েছে কয়েক লাখ টাকার ক্রীড়া সরঞ্জাম। প্রত্যেকটি হলে রয়েছে একাধিক টেবিল টেনিস বোর্ড, ক্যারাম বোর্ড, দাবা, তাস, লুডু, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, ফুটবলের সরঞ্জাম। কমনরুমে জায়গা না থাকায় শিক্ষার্থীরা সারা বছর খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছেন না। অনিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং খেলাধুলার উপযুক্ত স্থান না থাকায় অব্যবহৃত অবস্থায় সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। আবাসন সুবিধা না পাওয়া এবং মৌলিক সুবিধা হিসেবে খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ হিসেবে কমনরুম ব্যবহার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতা ও পরিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা না থাকায় কমনরুম সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন না হওয়ার জন্যও প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাসফিয়া তাহসিন বলেন, ‘ক্লাস-পরীক্ষা ছাড়া বাকি সময়গুলো সাধারণত হলেই থাকতে হয়। হলে অভ্যন্তরীণ খেলাধুলার জন্য কমনরুম থাকলেও সেগুলো এখন গণরুম বানানো হয়েছে। ফলে জায়গার অভাবে অবসর সময়ে আমরা খেলাধুলা করতে পারি না। হল প্রশাসনের উচিত দ্রুত এর সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিন বছর পর চলতি বছরে প্রীতিলতা হল, জাহানারা ইমাম হল, বেগম খালেদা জিয়া হল ও শেখ হাসিনা হলে বার্ষিক অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়েছে।

এ ছাড়া সুফিয়া কামাল হলে সর্বশেষ ২০২২ সালে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হলেও চলতি বছরে আয়োজন করা হয়নি। আর নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিব হলে ২০১৯ সালের পর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়নি।

এ বিষয়ে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ইয়ার হোসেন বলেন, ‘খেলাধুলার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম এবং কমনরুমকে গণরুম হিসেবে ব্যবহার করার কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা শিগগিরই এই আয়োজনের ব্যবস্থা করতে পারব বলে আশা করছি।’

কমরুম সংকট এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনিয়মিত আয়োজনের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নিগার সুলতানা বলেন, ‘আবাসন সংকট থাকার কারণে কমনরুমগুলোতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে আশা করছি, নতুন হলগুলো চালু হওয়ার পর আবাসন সংকট থাকবে না। তখন কমনরুমগুলো আবার ছাত্রীদের খেলাধুলার উপযোগী হয়ে উঠবে। এ ছাড়া সব হলেই বার্ষিক অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে। যে হলগুলো এখনো আয়োজন করতে পারেনি আশা করছি খুব দ্রুত আয়োজন করতে পারবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত