গাজার মসজিদ, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে আহত রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স কোনো কিছুই রেহাই পাচ্ছে না ইসরায়েলের হামলা থেকে। অব্যাহত হামলায় গতকাল শনিবার থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩১ জন নিহত হয়। এর মধ্যে গতকাল অ্যাম্বুলেন্সে গোলাবর্ষণে নিহত হয় কমপক্ষে ১৫ জন। তবে এত কিছুর পরও যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনাগ্রহী ইসরায়েল। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন জর্ডানে গিয়ে তৎপরতা জারি রেখেছেন।
চলতি যুদ্ধে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনে নিহত সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জন। হামাস ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) লড়াই এরই মধ্যে পঞ্চম সপ্তাহে পা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ যুদ্ধবিরতি নিয়ে আগ্রহ না দেখিয়ে ‘মানবিক বিরতির’ কথা বললেও ইসরায়েল কোনো ধরনের বিরতি প্রতিষ্ঠানই আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলছেন, হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের ছাড়া না হলে এই ধরনের কোনো সমঝোতা হবে না।
এর মধ্যে গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতাল চত্বরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছে। আহত রোগীদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের বহরে ইসরায়েলি গোলা এসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে। অবশ্য ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৫ জন বলে উল্লেখ করেছে। আইডিএফ কোনো রাখঢাক না করেই অ্যাম্বুলেন্সে হামলার কথা স্বীকার করে বলছে, হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই তারা এই হামলা চালিয়েছে।
স্কুল ও মসজিদে হামলা : গাজায় হামাসনিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুরদা গতকাল জানান, গাজায় আল-ফাখোরা নামের একটি স্কুলে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে কমপক্ষে ১৪ জন নিহত এবং ৫৪ জন আহত হয়েছে। হতাহতদের সিংহভাগই নারী ও শিশু। উল্লেখ্য, পরে এ হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২০ জন বলে জানা যায়।
এদিকে দুটি মসজিদও ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংস হয়েছে। গাজার দক্ষিণাঞ্চলে আল-সাবরা এলাকায় ইসরায়েলের হামলার মুখে পড়ে ধ্বংস হয় আলি আবি তালিব এবং আল-ইজতিজাবাহ মসজিদ ধ্বংস হয়।
নিরাপদ থাকছে জাতিসংঘ স্থাপনাও জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, এ মুহূর্তে গাজায় কোনো নিরাপদ স্থান নেই। ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় দিতে স্থাপিত জাতিসংঘ স্থাপনাগুলো অনবরত আক্রান্ত হচ্ছে। ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুতদের সহযোগিতাদানে নিয়োজিত সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, তাদের স্থাপনাগুলো ক্রমাগত ইসরায়েলি আক্রমণের মুখে পড়ছে।
সাত লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়দাতা প্রতিষ্ঠান ইউএনআরডব্লিউএ আরও জানায়, গত ৭ অক্টোবর থেকে প্রায় ৫০টি ভবন ও সম্পদ আক্রমণের মুখে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাদের কমপক্ষে ৭২ জন কর্মী নিহত হয়েছে।
জর্ডানে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন
হামাস-ইসরায়েল লড়াইয়ে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মানবিক বিরতির কথা বলছে। গত শুক্রবার তেল আবিবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সেই কথাই পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে নেতানিয়াহু শর্ত দিয়েছেন, জিম্মিদের না ছাড়লে কোনো কিছুই সম্ভব হবে না। সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবারই ব্লিঙ্কেন জর্ডানের রাজধানী আম্মানে পৌঁছান আরব নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে।
এরপর গতকাল আম্মানে ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় লেবাননের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতির। এ সময় কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মেদ বিন আব্দুলরাহমান আল-থানির সঙ্গেও তাকে দেখা যায়। গতকাল আরব বিশ্বের আরও নেতাদের সঙ্গে তার বৈঠক করার কথা।
হিজবুল্লাহ প্রধানের বক্তব্যের পর লেবানন সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে অঙ্কিত ‘ব্লু লাইন’ সীমানারেখা বরাবর তেল আবিবের সেনা ও হিজবুল্লাহর মধ্যে থেমে থেমে আন্তঃসীমান্ত ছোটখাটো লড়াই চলেছে। তবে সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন ইরানি সমর্থনপুষ্ট শিয়া মতাবলম্বী হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ। গতকাল শুক্রবার প্রথমবার মুখ খুলে তিনি বলেন, চলতি যুদ্ধে হামাসই জয়ী হবে। এই যুদ্ধে বিজ্ঞতা ও সাহসের সঙ্গে পরিচালিত হামাসের আক্রমণের প্রশংসাও করেন তিনি।
শুক্রবার নাসরুল্লাহর বক্তব্য সামনে আসাকে কেন্দ্র করে ব্লুু লাইন বরার সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় ছিল ইসরায়েলি বাহিনী। এদিন বড় ধরনের কোনো সংঘাত না হলেও গতকাল হিজবুল্লাহ অধ্যুষিত লেবানিজ ভূখণ্ডে প্রবেশ করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। আইডিএফ জানায়, হিজবুল্লাহ রকেট হামলার জবাবে তারা দক্ষিণ লেবাননের আরমেইশ গ্রামে হামলা চালিয়েছে। এত কারও হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
