বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল রাজধানীর মিরপুরের হাজারও শ্রমিক। তবে তাদের ন্যায্য দাবির এ আন্দোলনকে স্বার্থান্বেষী মহল ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। গুজব ছড়িয়ে সহিংস আন্দোলনে রূপ দেয়ার চেষ্টা করে তারা।
যদিও তাদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও র্যাবের তৎপরতায় ওই এলাকার শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে কাজে যোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর বিভিন্ন গার্মেন্টসে আন্দোলন শুরু করে পোশাক শ্রমিকেরা। এরপর দুষ্কৃতকারীরা ২৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ায়। এতে বলা হয়, মিরপুরের একটি গার্মেন্টসে সংঘর্ষে জোসনা নামে এক পোশাক শ্রমিককে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে। এরপর মিরপুরের বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে শ্রমিকেরা। তাদের সাথে পুলিশ, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুষ্কৃতকারীরা পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। আমরা শ্রমিকদের সাথে কথা বলি তাদের দাবির বিষয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করি। এরপর গত ১ নভেম্বর কালশী থেকে নিখোঁজ বলা পোশাক শ্রমিক জোসনা বেগমের সন্ধান পাই। তিনি সেখানে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে তার পরিবারের সাথে বসবাস করছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে শ্রমিকদের ভুল ভাঙে। তারা ধীরে ধীরে তাদের কর্মস্থলে ফিরে যায়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, যে সকল দুষ্কৃতকারী ও স্বার্থান্বেষী মহল পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে তাদের অপচেষ্টা রোধপূর্বক জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে নজরদারি অব্যাহত রাখছে র্যাব।
এদিকে ওই এলাকার একাধিক কারখানার শ্রমিকেরা জানিয়েছে, র্যাবের কর্মকর্তারা তাদের সাথে যোগাযোগ করে নিখোঁজ নারীকে উদ্ধার করেছেন। এ ছাড়া তাদের দাবির বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয় র্যাবের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন। এজন্য তারা অপেক্ষা করছেন। তারা নিজ কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছেন।
এদিকে র্যাব জানিয়েছে, র্যাব নিয়মিত টহল পরিচালনাসহ পুলিশ ও বিজিবির সাথে যৌথ টহল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোন দুষ্কৃতকারীরা যেন পোশাক শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে কোন ধরণের সহিংসতা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ গার্মেন্টসসমূহ চিহ্নিত করে ঐ এলাকার পোশাক শ্রমিকরা যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে সে জন্য র্যাব ফোর্সেস এর টহল জোরদারসহ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গার্মেন্টসের বিভিন্ন সংগঠন বা শ্রমিক সংগঠনগুলো যারা শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে কাজ করছে র্যাব তাদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে।
