কেএনএফের সঙ্গে চার শর্তে শান্তির সমঝোতা

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৩, ০২:২৮ এএম

পাহাড়ের নতুন সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সঙ্গে চার শর্তে শান্তির সমঝোতা হয়েছে। গতকাল রবিবার সংগঠনটির সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য গঠিত শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে এই সমঝোতা হয়। বৈঠক শেষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সকাল ১১টায় বান্দরবানের রুমা উপজেলার মুনলাই পাড়া কমিউনিটি সেন্টারে কেএনএফ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির সরাসরি আলোচনা হয়।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির মুখপাত্র কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যা। তিনি জানান, দুপক্ষের মধ্যে এর আগে অনেক বার ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক হলেও সামনাসামনি এটিই প্রথম বৈঠক। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

সশস্ত্র কেএনএফের সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য গত মে মাসে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি গঠন করা হয়। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, যে চার শর্তে সমঝোতা হয়েছে তার প্রথমটি হলো, উদ্ভূত যে কোনো সমস্যা সংলাপের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে উভয় পক্ষ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শান্তি প্রতিষ্ঠার এই সময়ে কেএনএফ কোনো ধরনের সশস্ত্র তৎপরতায় লিপ্ত হবে না এবং আঞ্চলিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীলতা রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

দ্বিতীয় শর্তে রয়েছে, সব কুকি সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ আবাসস্থলে ফেরত আসার ব্যাপারে অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তৃতীয় শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে, কেএনএফের পক্ষ থেকে কুকি সম্প্রদায়ের ভাগ্যোন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের (যোগ্যতার ভিত্তিতে) বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে, যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য বিবেচনা করা হবে।

চতুর্থ শর্তে বলা হয়েছে, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরবর্তী বৈঠক বা সংলাপ আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের তারিখ উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে। পরবর্তী সংলাপ পর্যন্ত কেএনএফ সব সশস্ত্র তৎপরতা থেকে বিরত থাকবে।

সমঝোতা স্মারকে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির আহ্বায়ক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা এবং কেএনএফ প্রেসিডেন্টের সিনিয়র উপদেষ্টা এন্ডার লাল এং লিয়ানের মধ্যে ৪ শর্তে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এন্ডার লাল শান্তি সংলাপে কেএনএফ  মনোনীত প্রতিনিধি।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, দুপক্ষের মধ্যে আলোচনায় শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির পক্ষে নেতৃত্ব দেন কমিটির আহ্বায়ক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য  শৈ হ্লা। অংশ নেন কমিটির মুখপাত্র কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যা, সদস্য মনিরুল ইসলাম মনু, লেলুং খুমী, বাসিং থোয়াই, লালজার বম ও জারলম বমসহ ৯ সদস্য। অন্যদিকে কেএনএফের ৫ সদস্য অংশ নেন। তবে সংগঠনটির প্রধান নাথান বম উপস্থিত ছিলেন না।

বৈঠক শেষে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির আহ্বায়ক ক্য শৈ হ্লা সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। দুপক্ষই আন্তরিকতার সঙ্গে সুন্দরভাবে আলোচনা করতে পেরেছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে আবারও আলাপ হবে। পরবর্তী সময়ে সরকারের সঙ্গে আলাপ করে সবকিছু জানানো হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তি ফেরানোর জন্য চেষ্টা করছি। তারাও (কেএনএফ) আন্তরিক।’

কেএনএফ গত বছরের মাঝামাঝি থেকে বান্দরবানের রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকায় এবং রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বড়থলি ইউনিয়নে তৎপরতা শুরু করে। তাদের দাবি, তারা বম, পাংখুয়া, লুসাই, খুমি, খেয়াং ও ম্রোদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছে। তাদের বিরুদ্ধে গোপন আস্তানায় সমতলের জঙ্গিগোষ্ঠী জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।

এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গত বছরের অক্টোবর থেকে কেএনএফ ও শারক্বীয়ার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। অভিযানে পাহাড় থেকে ৩৮ জন জঙ্গি ও বেশ কয়েকজন কেএনএফ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে কেএনএফের হামলায় পাঁচজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত