আপনি তো একজন গিটারিস্ট ছিলেন, একটা মিউজিক ব্যান্ডও ছিল। সেটা ভেঙে গেল কেন?
হ্যাঁ, আমাদের ব্যান্ডের নাম ছিল ‘দ্য ম্যানেজার’। যেটা অনেকেই জানে না। আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড হিসেবে আমরা বেশ জনপ্রিয় ছিলাম। একশোর বেশি শো করেছিলাম সেই ব্যান্ডটি নিয়ে। ব্যান্ডটি ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ, আমরা সবাই সবার মতো করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠন করতে আলাদা আলাদা সেক্টর বেছে নিয়েছিলাম। অনেকেই দেশের বাইরে চলে গেছে। আমি যেহেতু শিল্পী ছিলাম না, শুধু একজন মিউজিশিয়ান ছিলাম, আমার একার পক্ষে সেটা কন্টিনিউ করা সম্ভব হয়নি। তবে এখনো গিটার বাজাই আমি। এটা আমার শখ। আমার রুমে এখনো একটা গিটার রয়েছে। যখনই ইচ্ছে করে সেটা নিয়ে বসে পড়ি।
অভিনয়ে আসার আগে চাকরি করতেন। আপনার পরিবারের ইচ্ছে ছিল প্রকৌশলী হওয়ার, কিন্তু আপনি ঝুঁকলেন অভিনয়ে। এই সিদ্ধান্ত কতটুকু সঠিক ছিল বলে মনে করেন?
এআইইউবি থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) পাস করে বের হওয়ার পর আম্মুর স্বপ্ন ছিল আমি যেন ইঞ্জিনিয়ার হই কিন্তু আমি সেটা না করে একটা এজেন্সিতে চাকরি নিই। এরপর তো শোবিজে এলাম। আমার শোবিজে আসার পেছনে সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট ছিল বাবার। আমার প্রথম নাটক ‘অলটাইম দৌড়ের উপর’ অনেক হিট প্রোডাকশন ছিল, কিন্তু তখন আমার বাবা সেটা দেখে বলেছিলেন, ‘ভালো হয়নি।’ উনি তখন বলেছিলেন, তুমি যদি অভিনয়কেই সিরিয়াসলি নিতে চাও তাহলে আগে অভিনয়টা ভালোভাবে শেখো, তারপর অভিনয় করো। বাবার এ কথাটাই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। উনি বলতে পারতেন যে এগুলো করো না; কিন্তু উনি সেটা না বলে আমাকে সাপোর্ট করেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন যেন অভিনয়টা মন দিয়ে করি। এরপর থেকে তো পথচলা শুরু। দর্শকের অনেক অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। এই অঙ্গ নে না থাকলে হয়তো চাকরি করে ভালো থাকতে পারতাম, কিন্তু দর্শকের এই ভালোবাসাটা পেতাম না।
সিনেমার জোয়ারে এক বছর ধরে নাটকে কিছুটা ভাটা পড়েছে। সে অর্থে খুব একটা আলোচনা নেই বললেই চলে। এ বিষয়টা কীভাবে দেখছেন?
সিনেমার জোয়ার প্রতি বছর কিংবা দুই-তিন বছর পরপর আসে আর এতে নাটকে কিছুটা ভাটা পড়ে, এটা খুবই স্বাভাবিক। বড় পর্দার বিষয়টাই তো অন্যরকম। এর মধ্যেও যে আমাদের ছোট পর্দা ভালো করছে, এটা অস্বীকার করার কিন্তু কোনো সুযোগ নেই। এখন অনেক ভালো ভালো কাজ হচ্ছে, হিট প্রোডাকশন হচ্ছে, দর্শক সেগুলো নিয়ে আলোচনা করছে। এ বছর অনেক ভালো সিনেমাও এসেছে, যেগুলো নিয়ে অনেক বেশি আলোচনা ছিল। সেসবের ভিড়েও আমাদের অনেক নাটক আলোচনায় এসেছে। আমার বেশ কিছু নাটক, যেমন উড়াল পাখি, কাছের মানুষ নিয়ে আমি বেশ সন্তুষ্ট। এই কাজগুলো অনেক বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। যেখানেই গিয়েছি, কাজগুলো নিয়ে তাদের মন্তব্য শুনেছি।
জুটিপ্রথা বলে একটা বিষয় প্রচলিত রয়েছে। অনেকের সঙ্গেই জুটি বেঁধে কাজ করেছেন, এখনো করছেন। তারপরও কোনো একজন শিল্পীকে ঘিরে আপনার জুটি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না কেন?
জুটিপ্রথা সব সময় ছিল এবং থাকবে-এটাই স্বাভাবিক। সাফা কবিরের সঙ্গে আমার একটা বেশ ভালো জুটি গড়ে উঠেছিল। আমরা একসঙ্গে প্রায় পাঁচ থেকে সাত বছরের মতো কাজ করেছি। এই সময়ে এসে যদি বলি অনেকের সঙ্গেই কাজ করেছি আর জুটির বিষয়টা তো আর ছক কষে বা পরিকল্পনা করে হয় না, সেটা দর্শকরা তৈরি করে দেয়। তা ছাড়া নাটকের একঝাঁক শিল্পী এখন ওটিটিতে ঝুঁকেছে। তাদের পর এখন যারা নতুন টেলিভিশনে এসেছে, তাদের অনেকেই এখনো সব চরিত্রের জন্য এতটা ম্যাচিউরড না। সবকিছুর জন্যই সময় লাগে। একটা স্ট্রং জুটির জন্য তো অবশ্যই।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও এখন একটা সিন্ডিকেটের কথা শোনা যাচ্ছে। সিন্ডিকেটের বাইরে শিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য নন তারা। আপনার ওটিটিতে কাজ না হওয়ার পেছনে কি কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে মনে করেন?
সিন্ডিকেট শব্দটা শুনতে যতটা নেগেটিভ লাগে, আসলে কিন্তু বিষয়টা তেমন না। সিন্ডিকেট মানে হচ্ছে-কয়েকজন সদস্যের একটা গ্রুপ যারা কাজটা ভালো বোঝে এবং একসে ঙ্গ মিলে কাজ করে। ওটিটির মতো বড় একটা প্ল্যাটফর্ম বোদ্ধাদের হাতে থাকবে, এটা খুব স্বাভাবিক। সিন্ডিকেটের কারণে ওটিটির কাজ পাচ্ছি না, এটা একদমই ভুল কথা। আমি যদি চরকির কথা বলি, এখানে রেদওয়ান রনি, আদনান আল রাজীব আছেন, যারা কিনা আমার বড় ভাই। সেখানে কাজ পাওয়া তো আমার জন্য আরও অনেক সহজ। কিন্তু আমি যেসব পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে চাচ্ছি, তাদের কাছ থেকে ঠিকঠাক গল্প নিয়ে প্রস্তাব পাচ্ছি না, যার কারণে আমার এখনো ওটিটি করা হয়নি।