ট্রাক পোড়ানোর মামলায় কারাগারে যুবলীগ নেতা

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:৩১ এএম

বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর ডাকা অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে ফেনীতে চিনি বোঝাই ট্রাক পোড়ানোর মামলায় যুবলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার নুরুল উদ্দিন টিপু সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি ও সদর উপজেলা কমিটির সদস্য। গত রবিবার রাতে আটকের পর সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে গাজীপুরের শ্রীপুরে বাসে আগুনের ঘটনায় হওয়া মামলায় আসামি করা হয়েছে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে। তার নাম আবদুল্লাহ আল মামুন (২৩)।

ফেনীতে ট্রাক পোড়ানোর ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. হায়াত উল্যাহ যুবলীগ নেতা টিপুকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ফেনী সদর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি নুরুল আবছার আপন জানান, টিপু উপজেলা যুবলীগের কমিটির সদস্য ও ধলিয়া ইউনিয়নের সহসভাপতির দায়িত্বে আছেন। তবে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অবগত নন।

জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর ভোরে চট্টগ্রামের একটি কারখানা থেকে চিনি নিয়ে নোয়াখালীর চৌমুহনী যাচ্ছিলেন ট্রাকচালক আবদুস সামাদ। ভোররাত ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোল সেতুর ওপর পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে তারা ট্রাকের সামনের অংশে পেট্রোল ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। চালকের চিৎকারে কয়েকটি গাড়ি থামলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফেনী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে ট্রাকমালিক চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার দেওয়ানবাজার এলাকার উজ্জ্বল বৈদ্য বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫-২০ জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন।

সকালে শান্তি মিছিলে, পরদিন নাশকতার আসামি : সকালে বিএনপির ডাকা অবরোধবিরোধী শান্তি মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগ কর্মী পরদিন দুপুরেই এক ব্যক্তির করা নাশকতা মামলার আসামি হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুরে। গত সোমবার দুপুরে শ্রীপুর মডেল থানায় বিস্ফোরক ও নাশকতার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। যার বাদী তাকওয়া পরিবহনের স্বপন আহমদ।

বিএনপির কর্মীদের পাশাপাশি মামলাটির আসামি করা হয়েছে বরমী বাজার এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী আবদুল্লাহ আল মামুনকে (২৩)। তাকে আসামি করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পুলিশের দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ছাত্রলীগ কর্মী বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে একই মামলার আসামি এমন খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রলীগ কর্মীরা।

মামলার আসামি হওয়ার খবর পেয়ে মামুন তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘আমি ছাত্রলীগ কর্মী হয়েও নাশকতা মামলার আসামি হলাম!’ তার এই পোস্ট অল্প সময়ের মধ্যে সবার নজরে আসতেই সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে। আবদুল্লাহ আল মামুন ছাত্রলীগ কর্মী এমন একটি প্রত্যয়ন করা চিঠিও (দলীয় প্যাডে) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার আসামি করা হয়েছে। তবে কোনো ছাত্রলীগ কর্মী বা নির্দোষ ব্যক্তি আসামি হয়ে থাকলে চার্জশিট হওয়ার আগে অধিকতর তদন্ত করে আসামি নিশ্চিত করা হবে।

ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত ৫ অক্টোবর সকালে মাওনা চৌরাস্তা ফ্লাইওভারের নিচে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হরতাল-অবরোধের বিরুদ্ধে ‘শান্তি মিছিল’ করে। ওই মিছিলে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসির সমর্থকরা ছিলেন। কিন্তু বেড়াইদেরচালা এলাকায় তাকওয়া পরিবহনের একটি বাস ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাকেও (মামুন) নাশকতা মামলার আসামি করা হয়েছে।

মামুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ছাত্রলীগ কর্মী হয়েও নাশকতা মামলার আসামি করা হয়েছে শুধু দলীয় গ্রুপের রঙ লাগিয়ে।’

বরমী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের ইউনিয়ন শাখার দায়িত্ব পালন করেছি। বহু মিছিল-মিটিংয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন আমাদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। সে ছাত্রলীগের আদর্শের একজন সক্রিয় কর্মী। চলতি সময়েও বিএনপির ডাকা অবরোধবিরোধী নানা শান্তি মিছিলে সে সক্রিয় ছিল। এই মামলার ঘটনার দিনেও মাওনাতে শান্তি মিছিলে সে ছিল।’

বরমী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ খন্দকার বলেন, ‘মামুন একসময় চাকরির জন্য আসলে একটি প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছিল। আমি সেখানে প্রত্যয়ন করেছিলাম চাকরি পাওয়ার সুবিধার জন্য। তবে সে ছাত্রলীগ কর্মী কি না এটা আমি নিশ্চিত না।’

শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাহাবুব হাসান বলেন, আবদুল্লাহ আল মামুন ছাত্রলীগ কর্মী না। কোনো মিটিং-মিছিলে তাকে কখনো দেখা যায়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রীপুর মডেল থানার ওসি আবুল ফজল মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘বাদী স্বপন আহম্মেদের অভিযোগে যাদের নাম ছিল তাদের আসামি করা হয়েছে। মামলাটি নথিভুক্ত হলেও অধিকতর তদন্তসাপেক্ষে যেকোনো নির্দোষ ব্যক্তির নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হবে। তবে নাশকতাকারী বা অপরাধীর কোনো দলীয় বা ব্যক্তি পরিচয় হয় না। সে শুধু অপরাধী এটাই পরিচয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত