০.৪৬% জয়ের সম্ভাবনা যেভাবে বদলে দিলেন ম্যাক্সি

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৩, ১২:২৭ পিএম

হার না মানসিকতা বোধহয় একেই বলে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে গতকাল যা দেখালেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, সেটাকে অবিশ্বাস্য বললেও কম হয়ে যাবে। একার লড়াইয়ে দারুণ এক ডাবল সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে সেমিফাইনালে তুললেন বিধ্বংসী এই ব্যাটসম্যান।

জিতলেই শেষ চার নিশ্চিত, এমন সমীকরণের ম্যাচে আফগানদের ২৯১ রান তাড়ায় ভীষণ চাপে পড়ল অস্ট্রেলিয়া। একের পর এক উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কা তখন পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের শিবিরে। প্রায় তিনশ রানের লক্ষ্যে ৯১ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর জয়ের আশা করা বোকামি ছাড়া আর কি!

১৯ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান যখন ৭ উইকেটে ৯৫, তাদের জয়ের সম্ভাবনা ছিল মাত্র ০.৪৬ শতাংশ। আফগানিস্তান শিবির তখন অপেক্ষায় কখন মাতবে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার হারানোর উল্লাসে। কিন্তু ক্রিজে থাকা ম্যাক্সওয়েল আফগানদের সব আয়োজন ভেস্তে দিলেন একাই। খেলেন ২০১ রানের অপরাজিত ইনিংস। তার ১২৮ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১০ ছক্কা ও ২১ চারে।

অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে বোধহয় ম্যাক্সওয়েলের বার্তা ছিল, ‘তুমি শুধু দাঁড়িয়ে থাক, বাকিটা আমি দেখছি।’ কামিন্স যেমন সঙ্গ দিয়ে গেছেন, ম্যাক্সওয়েলও তেমনি দলকে টেনে নিয়ে গেছেন কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়। এই দুইজনের জুটি শেষ পর্যন্ত আর ভাঙতেই পারেনি আফগানিস্তান।

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে ওয়ানডেতে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি ইনিংস খেলার পথে ম্যাক্সওয়েলের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল শরীর। পিঠের সঙ্গে হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যা ভুগছিলেন তিনি। মাঠেই কয়েক দফা চিকিৎসা নিয়ে চালিয়ে যান লড়াই। শেষ পর্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোবলে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয় ম্যাক্সওয়েল।

ম্যাচ শেষে ব্যথার বর্ণনা করেন ম্যাক্সওয়েল এভাবে, ‘অদ্ভুত ছিল এটা, কারণ পায়ের একটি আঙুলে ক্র্যাম্প করছিল, যেটা পায়ের উপরের দিকে উঠছিল। যখন আমি আবার ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করলাম, অন্য পায়ে ছড়িয়ে যায় ব্যথা এবং ওই পায়েও ক্র্যাম্প হয়। দুই পায়ের নিচের অংশে ক্র্যাম্প অনুভব করছিলাম। একই সঙ্গে আমার বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়েও টান লাগছিল। যখন মাটিতে পড়ে যাই তখন পিঠের ব্যথা অনুভব করি। এমনটা মনে হচ্ছিল, পুরো শরীরেই ব্যথা।’

অস্ট্রেলিয়ার রান যখন ৭ উইকেটে ৯১, ম্যাক্সওয়েল খেলছিলেন ২৬ বলে ২২ রানে। সেখানে থেকে ডাবল সেঞ্চুরি করে দলকে জেতানোর পথে দুই দফায় জীবনও পেয়েছিলেন তিনি। নুর আহমেদের বলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দিলে রিভিউ নিয়ে বাঁচেন তিনি। তখন খেলছিলেন ২৭ রানে। ওই ওভারেই দুই বল পর তার সহজ ক্যাচ ছাড়েন মুজিব উর রহমান। এরপর আর প্রতিপক্ষকে পরিষ্কার কোনো সুযোগই দেননি ম্যাক্সওয়েল। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ব্যাটিং করে ওয়ানডে ইতিহাসে রান তাড়ায় প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে আফগানদের মুঠো থেকে ছিনিয়ে নেন জয়।

গতকাল ম্যাক্সওয়েল প্রথম ৫১ বলে করেছিলেন ৫০ রান, পরের ৫০ করতে লাগে মাত্র ২৫ বল। পরের ১০০ রান তিনি করেছেন মাত্র ৫২ বলে। কীভাবে এমন একটা ইনিংসে খেলে দলকে জিতিয়েছেন সেই কৌশলও বলেছেন ম্যাক্সওয়েল, ‘আমরা জানতাম, শেষ ১৩ ওভারের মধ্যে রশিদের ১৮ বল বাকি ছিল। রশিদকে ম্যাচে প্রভাব ফেলতে না দেওয়ায় আমার মনে হয়েছে অন্য বোলারদের বাউন্ডারি মারতে পারব। রশিদকেই অকার্যকর রাখতে গুরুত্ব দিয়েছি, শেষ দিকে তাকে কোনো ভূমিকা রাখতে দিতে চাইনি। শেষদিকে ম্যাচটা যদি ওর প্রভাবমুক্ত রাখতে পারি, তাহলে সব ঠিক আছে—এই ভাবনা ছিল।’

ম্যাক্সওয়েল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে পারেননি। ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে আহমেদাবাদের একটি গলফ কোর্সে সতীর্থদের নিয়ে খেলতে গিয়েছিলেন তিনি। এক রাউন্ড খেলার পর গলফ কার্টে (একধরনের ছোট গাড়ি) চড়ে ক্লাব হাউস থেকে টিম বাসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত কার্টের পেছন দিক থেকে পড়ে গেলে মাথায় আঘাত পান।

তবে ম্যাক্সওয়েল আর এমন চোটে পড়তে চান না। এখন থেকে সতর্কই থাকবেন। বলেছেন, আপাতত গলফ কার্ট থেকে দূরে থাকবেন, ‘গত দুই সপ্তাহ অনেক ব্যস্ত গেছে। অদ্ভুত কেটেছে দুই সপ্তাহ। প্রথম দুই ম্যাচের পর তো অনেকেই আমাদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েই দিয়েছিল। যথাসময়ে টানা ছয়টা জয় তুলে নিয়েছি, আর এমন উদ্দীপ্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আমরা আজ আমাদের সেরাটা খেলতে পারিনি। তাই সেমিফাইনালে পৌঁছানো দুর্দান্ত এক অনুভূতি। আর গলফ কার্ট থেকে কিছুদিন দূরে থাকব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত