২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে দলটির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের পরদিন থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ। তবে তালাবদ্ধ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছে পুলিশ।
আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে নয়া পল্টন কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বিএনপি-জামায়াতের ডাকা তৃতীয় দফা অবরোধের প্রথমদিনে কার্যালয়ের সামনের রাস্তা দিয়ে অল্প কিছু রিকশা, সিএনজি ও প্রাইভেট কার চলছে। তবে দলটির কোনো নেতা-কর্মীকে কার্যালয়ের সামনে কিংবা আশপাশে অবস্থান করতে দেখা যায় নি।
তবে কার্যালয়ের সামনে যথারীতি অবস্থান করতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। তারা কেউ গল্প করছেন কেউ বা দাঁড়িয়ে সতর্ক নজর রাখছেন। এ ছাড়া গণমাধ্যম কর্মীদের সংবাদ সংগ্রহ কিংবা পথচারী আর উৎসুক জনতার সামন্য উপস্থিতি চোখে পড়ে।
২৯ অক্টোবর থেকে বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে কার্যালয়ে দেখা যায়নি। সে হিসেবে আজ টানা ১১দিন বিএনপির কার্যালয় নেতা-কর্মী শূন্য। আর এই পুরোটা সময় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেখেছে পুলিশ।
এদিকে গত শনিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে লোহার তৈরি ১০টি ব্যারিকেড (রোড ব্লক) আনা হয়। সেগুলো এখনও কার্যালয়ের সামনেই রয়েছে।
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুরো দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে বর্তমান সরকার। যেহেতু পুরো দেশ জিম্মি আছে তাই কার্যালয়ের সামনে পুলিশ থাকবে কিংবা কার্যালয় জিম্মি করে রাখবে এটাই স্বাভাবিক। পুরো দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের গণ গ্রেপ্তার চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কেউ কারাগারে, কেউ আত্মগোপনে। যেহেতু দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না তাই কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ পুলিশের হাতে থাকাই নিরাপদ। দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতাদের ছাড়া পাওয়ার কোনো সুযোগ দেখছি না। যদি সরকার তার পরিকল্পনা মত নির্বাচন করে ফেলতে পারে তাহলে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলটির নেতারা কারাগার থেকে বের হয়ে যাবেন এবং কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবেন।
