ম্যাথিউসের টাইমড আউট নিয়ে এমসিসির ব্যাখ্যা

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৩, ০৪:৪৩ পিএম

বাংলাদেশের বিপক্ষে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের টাইমড আউট নিয়ে চর্চা চলছেই। বাংলাদেশের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে তো বলেই দিয়েছেন, এই আলোচনা থামার নয়। এই বিষয়ে এবার নিজেদের ব্যাখ্যা দিয়েছে ক্রিকেটের আইন প্রণয়ন সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব-এমসিসি।

সংস্থাটির বিশদ ব্যাখ্যার সারমর্ম এমন, ক্রিকেটের নিয়মের ভেতরে থেকে বাংলাদেশ দল ও মাঠের দুই আম্পায়ার কোনো ভুল করেননি। হেলমেটে সমস্যা বুঝতে পেরে ম্যাথিউস যদি সেটি আম্পায়ারদের জানাতেন, তাহলে তাকে বাড়তি সময় দেওয়ার কথা ভাবতে পারতেন আম্পায়াররা।

ম্যাথিউসের টাইমড আউটের সার্বিক দিক ব্যাখ্যা করেছে এমসিসি এভাবে, '(টাইমড আউটের) নিয়মের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নতুন ব্যাটসম্যানকে আগের আউটের দুই মিনিটের মধ্যে প্রথম বল খেলার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। মাঠে ঢোকা বা উইকেটে থাকাও টাইমড আউট এড়ানোর জন্য যথেষ্ট নয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রথম বল খেলার অবস্থায় থাকতে হবে ব্যাটসম্যানকে।' 

এছাড়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'আম্পায়ারদের মনে হয়েছে, দুই মিনিট সময়ের মধ্যে প্রথম বল মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না ম্যাথিউস। এরপর তার হেলমেটেও সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে আরও সময় নষ্ট হয়।'

এমসিসির ধারণা ম্যাথিউস সময়ের দিকে খেয়ালই করেননি, 'ত্রিশ গজের বৃত্তে যেতেই ৯০ সেকেন্ড লেগে যাওয়ায় ম্যাথিউস হয়তো বুঝতে পারেন, সময়ের চেয়ে পিছিয়ে আছেন তিনি। তাই বাকি পথ কিছুটা দৌড়েই যান তিনি। আগের উইকেট পড়ার ১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের মাথায় তার হেলমেটের সমস্যা দেখা দেয়। ওই মুহূর্তে তিনি গার্ড নেননি এবং বল খেলার জন্যও প্রস্তুত ছিলেন না।'

নতুন হেলমেট চাওয়ার আগে আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলে নিলে সমস্যা হতো না ম্যাথিউসের, 'যখন হেলমেটে সমস্যা হলো, তখন আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলেননি ম্যাথিউস। সাধারণত নতুন সরঞ্জাম আনার ক্ষেত্রে তা করতে হয়। কিন্তু তিনি নতুন হেলমেটের জন্য সরাসরি ড্রেসিং রুমের দিকে ইশারা করেন। তিনি যদি আম্পায়ারকে বলতেন কী হয়েছে এবং সময় চাইতেন, তাহলে তারা (আম্পায়ার) হয়তো টাইমড আউটের বিষয়টি এড়িয়ে হেলমেট পরিবর্তনের জন্য সময় দিতে।'

ক্রিকেটের চেতনা রক্ষার্থে টাইমড আউটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ওঠা প্রশ্নে এমসিসি জানিয়েছে, খেলাটির গতি ধরে রাখতে ও অহেতুক সময় নষ্ট এড়াতে ক্রিকেটে এই আইনের প্রয়োজন রয়েছে। এমসিসির ব্যাখ্যা, 'এই নিয়ম ছাড়া একজন ব্যাটার উইকেট পড়ার পর সময়জ্ঞানের পরিচয় না দিয়ে অযথা সময় অপচয় করতে পারেন। যখন দিনের আলো কমতে থাকে এবং ড্র সম্ভাব্য ফল হতে পারে, তখন এই সময় অপচয় একটি সমস্যা হতে পারে। এছাড়া সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মন্থর ওভার রেটের কারণে ফিল্ডিং দলকে শাস্তির মুখেও পড়তে হয়। এমনকি ব্যাটসম্যানের ভাবনায় যদি সময় অপচয় নাও থাকে, তবু খেলাটির গতি ধরে রাখতে ও দুই উইকেটের মাঝে অহেতুক বিরতি এড়াতে টাইমড আউটের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত