বিএনপির প্রতিক্রিয়া

চীনা রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নয়

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৩, ০২:২৬ এএম

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি বলেছে, চীন বাংলাদেশের ‘সংবিধান অনুযায়ী’ আসন্ন নির্বাচন দেখতে চায় বলে রাষ্ট্রদূত ওয়েন যে মন্তব্য করেছেন, তা জনগণের ইচ্ছা বা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন নয়।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন গত  বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিআরআইয়ের ১০ বছর : পরবর্তী সোনালি দশকের সূচনা’ শীর্ষক সেমিনারে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি ‘বাংলাদেশের সংবিধান মেনে চলার’ ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন দেখতে চায় চীন।

এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যটি এমন একসময়ে এসেছে, যখন সমগ্র জাতি গণতন্ত্রের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের প্রয়াসে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি জানাচ্ছে।

রিজভী আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে ‘বাংলাদেশের সংবিধান মেনে চলার’ ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বাংলাদেশকে নিয়ে তার এই উদ্বেগকে আমরা স্বাগত জানাই। পাশাপাশি এটিও মনে করিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনকারী দল হিসেবে বিএনপি সব সময় সেই সংবিধানের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ, যা জনগণ দ্বারা অনুমোদিত ও গৃহীত। দুঃখজনকভাবে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার অপপ্রয়াসে বিতর্কিত সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করেছে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এখানে উল্লেখ্য, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত, সর্বজনস্বীকৃত ও বহুল প্রশংসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে সরকার বাতিল করেছে। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে পরপর দুটি প্রহসনমূলক জাতীয় নির্বাচন স্পষ্টতই প্রমাণ করেছে, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ, নির্বাচনের নামে যে রাষ্ট্রীয় দুর্বৃত্তায়ন, তাতে অনেক ক্ষেত্রে সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি চিহ্নিত অংশ।’

বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসা, বাণিজ্য, জ্ঞান ও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। বিএনপি বিশ্বাস করে, দুদেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনেই কূটনৈতিক সাফল্য নিহিত। তাই বিএনপি চীনকে আহ্বান করছে, বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায় ও স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রতি আলোকপাত করার জন্য। দেশের মানুষের চলমান সংগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সর্বাত্মক সমর্থন প্রত্যাশা করে, যেন অচিরেই বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পন্ন হয়।’

টুকুর বক্তব্য তার ব্যক্তিগত মতামত : ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুতে এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সেক্যুলারিজম, পলিটিক্যাল ইসলাম সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছে তা তার ব্যক্তিগত বলে মন্তব্য করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।

বিবৃতিতে রিজভী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপির মূলভিত্তি হচ্ছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। জনগণভিত্তিক গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সব ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নাম বিএনপি। তাই টুকুর বক্তব্য এবং মতামত একান্তই তার নিজস্ব। এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত