বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, ‘সরকার দেশকে সম্পূর্ণ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। শুধু বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাই নয়; পেশাজীবী-শ্রমজীবী-কর্মজীবী এমনকি গার্মেন্টস শ্রমিকরাও নিরাপদ নয়। তারা ক্ষমতার ভাগ চায় না। তারপরও তাদের রেহাই নাই।’
আজ রবিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, ‘বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে আজ পর্যস্ত চারজন শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। শ্রমিকরা তো রাষ্ট্র ক্ষমতার ভাগ চায়নি। আঞ্জুয়ারা শুধু স্বামী-সস্তান নিয়ে খেয়ে পরে একটু সুখে শাস্তিতে বেঁচে থাকার দাবি তুলেছিল। কিন্তু সরকারের অবৈধ ক্ষমতার লোভ আঞ্জুয়ারা, মো. জামাল উদ্দিনদের বাঁচতে দেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সুকৌশলে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় খাত পোশাক শিল্প ধ্বংসের নীল নকশা বাস্তবায়ন করছেন। তিনি পূনরায় চুয়াত্তরের মতো দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করতে চান, দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করতে চান। বাংলাদেশি মালিকরা সরকারের প্ররোচণায় শনিবার ১৫০ পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। ন্যায্য দাবি আদায়ের বিক্ষোভের দায়ে ১১ হাজার শ্রমিককে অভিযুক্ত করে মামলা করেছে পুলিশ। পুরো অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। জনগণ বিশ্বাস করে-এখন রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসা অন্য দেশের হাতে তুলে দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার গ্যারান্টি চান শেখ হাসিনা।’
রিজভী বলেন, ‘ভোট ডাকাতদের প্রতিহত করে ১২ কোটি ভোটারের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গণতন্ত্রের পক্ষ শক্তির দরজায় কড়া নাড়ছে বিজয়ের হাতছানি। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে সর্বাত্মক অবরোধে অচল হয়ে গেছে বাংলাদেশ। আর ভোট ডাকাত আওয়ামী সরকারের জন্য অপেক্ষা করছে জনগণের আদালতের কাঠগড়ায় বিচারের মুখোমুখী হওয়ার। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা শুধুমাত্র নিজের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে হত্যা, গুম, খুন, মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তারের মাধ্যমে গোটা দেশে একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।’
