১২ দিন ধরে ভুল চিকিৎসা, হার্টের সমস্যায় মারা গেল ২ মাসের শিশু

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:০৭ এএম

কুমিল্লায় ভুল চিকিৎসায় ২ মাস বয়সী শিশু হোসাইনের মৃত্যু অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা শহরের হলি কেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক এম কাইয়ুমের বিরুদ্ধে ।

রবিবার (১২ নভেম্বর) কুমিল্লা টমছম ব্রীজ এলাকায় হলি কেয়ার হাসপাতালের এনআইসিইউতে এ ঘটনা ঘটে।

আর এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে সংবাদকর্মীদের উপর হামলা এবং ডিবিসির ক্যামেরা কেড়ে নেন এই হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোরশেদুল আলম। আহত ডিবিসির ক্যামেরা পার্সন বিপ্লব কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করেন। সংবাদকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলার কারণে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোরশেদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি জানান কুমিল্লার সাংবাদিক মহল।

নিহত শিশু হোসাইন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বাড়াইপুর গ্রামের সোলেমান মিয়ার ছেলে। 

জানা যায়, গত ১৪ দিন আগে নবজাতক শিশু হোসাইন অসুস্থ হলে কুমিল্লা নগরীর হলি কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান নবজাতক শিশুর বাবা সোলেমান। শিশু ডা: এম এ কাইয়ুম চিকিৎসা প্রধান করেন। চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করেন হলি কেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

এক পর্যায়ে ওই শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে বলে ১০ দিন ধরে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং স্বজনদের কাছে শিশু ভালো আছে বলা হয়। কিন্তু ১৩ দিনের মাথায় বলে শিশুর অবস্থা ভালো নয়, ঢাকায় নিতে হবে বলে জানায় ডাক্তাররা।

এ সময় শিমুল নামের আরেকজন ডাক্তার শিশুর ইকো করতে বলেন। পরবর্তীতে আলী শিশু হসপিটাল থেকে ইকো করে আনলে ডাক্তার শিমুল বলেন শিশুর হার্টে সমস্যা। আপনারা এত দিন নিউমোনিয়া চিকিৎসা কেন করেছেন? এ সময় তিনি শিশুটিকে দ্রুত ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন।

পরে স্বজনরা ঢাকার হাসপাতালে শিশুকে নেয়ার প্রস্তুতিকালে রোগী মারা গেছে বলে জানান ডাক্তার।

নিহতের বাবা সোলেমান বলেন, “ডা. কাইয়ুম আমার বাচ্চাকে ভুল চিকিৎসায় মেরে ফেলছে। গত ১৪ দিন আগে আমার বাচ্চার নিউমোনিয়া হয়েছে বলে এনআইসিইউতে ভর্তি করি। অথচ ১৩ দিনের মাথায় আরেক ডাক্তার শিমুল জানতে পারলেন যে বাচ্চার নিউমোনিয়া হয় নাই, বাচ্চার হার্টে সমস্যা। পরে দ্রুত ঢাকায় নেব এমন সময় আরেক ডাক্তার বলছে তোমার বাচ্চা মারা গেছে। চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুল চিকিৎসা করেছে জানিয়ে বিচার দাবি করেন তিনি।“

অভিযুক্ত চিকিৎসক কাইয়ুমকে খুঁজে না পাওয়ায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে আহত ডিবিসির ক্যামেরা পার্সন বিপ্লব জানান, “এ বিষয়ে আমি সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলেই আমার ক্যামেরা ভেঙে ফেলে ও আমার হাতে মোচর দিয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। আমি এর বিচার চাই।“

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোরশেদুল আলম জানান, “আমার হসপিটাল কোন অনিয়ম কিংবা অপচিকিৎসা হলে আপনি থানা, আদালত কিংবা সিভিল সার্জন অফিসে  অভিযোগ করেন। আমার প্রতিষ্ঠানের কোন ভিডিও করবেন না। আমরা এখানে ভাইসা আসি নাই।“

হলি কেয়ার হাসপাতাল এবং ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডাঃ নাছিমা আক্তার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত