দ্রুত কনটেইনার পরিবহন হবে পতেঙ্গা টার্মিনালে

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৩, ০১:৩৭ এএম

উদ্বোধন হচ্ছে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)। একই সঙ্গে বে-টার্মিনালের মাস্টারপ্ল্যনের মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই দুই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্প অনেক আগেই চালুর উপযোগ হওয়া সত্ত্বেও এত দিন তা উদ্বোধন করা হয়নি। এই টার্মিনালটি বিদেশি অপারেটর দিয়ে পরিচালিত হবে।

এই দুই প্রকল্প সম্পর্কে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে। এ ছাড়া এটি মোহনার কাছে হওয়ায় দ্রুত কনটেইনার পরিবহন করা যাবে। চট্টগ্রাম বন্দরের অগ্রযাত্রায় এটি খুবই সহায়ক হবে।’

মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, ‘বে-টার্মিনাল মানেই হলো নতুন একটি বন্দর। এত দিন এই টার্মিনালের কোনো মাস্টারপ্ল্যান ছিল না। এখন মাস্টারপ্ল্যান হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী সেই মাস্টারপ্ল্যানের মোড়ক উন্মোচন করবেন আজ।’

পতেঙ্গার ড্রাইডক প্রান্ত থেকে বোট ক্লাবের আগ পর্যন্ত অংশে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের জেটির দৈর্ঘ্য ৪০০ মিটার। পতেঙ্গা বোট ক্লাব ও চিটাগাং ড্রাইডকের মধ্যবর্তী ২৬ একর জায়গায় চারটি জেটির সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পিসিটি। এর মধ্যে তিনটি জেটি (প্রতিটি ২০০ মিটার দীর্ঘ) কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য এবং বাকি একটি ডলফিন জেটি (২২০ মিটার দীর্ঘ)। ডিপিএম (সরাসরি সংগ্রহ পদ্ধতি) পদ্ধতিতে এই প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর ২০১৭ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু করেছিল।

অপরদিকে হালিশহরের ইপিজেড থেকে দক্ষিণ কাট্টলী রাসমণি ঘাট পর্যন্ত সাগরের ভেতরের প্রায় ২ হাজার ৩০০ একর (সরকারের কাছ থেকে ৮৭০ একর বরাদ্দ পেলেও বাকি জায়গা সাগর থেকে পুনরুদ্ধার করা হবে) জায়গায় বে-টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। জোয়ার-ভাটা, দিন-রাত, বাঁকা চ্যানেল কিংবা ড্রাফটের বিবেচনা কর্ণফুলী নদীর জেটিতে ভিড়লেও বে-টার্মিনালের ক্ষেত্রে সেই সীমাবদ্ধতা নেই। বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর জেটিতে পৌঁছাতে একটি জাহাজকে ১৫ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। কিন্তু বে-টার্মিনাল নির্মাণ করা হলে তা শূন্য কিলোমিটারের মধ্যেই বার্থিং করতে পারবে। বে-টার্মিনাল নির্মাণ হলে যেকোনো দৈর্ঘ্য ও প্রায় ১২ মিটার ড্রাফটের জাহাজ এখানে ভিড়তে পারবে। বিপরীতে বর্তমান চ্যানেলে মাত্র ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ কর্ণফুলীতে প্রবেশ করতে পারে। সে ক্ষেত্রেও জাহাজকে দুটি বাঁক অতিক্রম করতে হয় এবং দিনের মাত্র চার ঘণ্টা সময় পাওয়া যায়। কিন্তু বে-টার্মিনালে ২৪ ঘণ্টা জাহাজ পরিচালনা করা যাবে। বিদ্যমান পোর্ট জেটিতে একসঙ্গে ১৬টি জাহাজ বার্থিং করা গেলেও বে-টার্মিনালে গড়ে প্রায় ৫০টি জাহাজ একই সঙ্গে বার্থিং করা যাবে। বন্দরের জেটির দৈর্ঘ্য চার কিলোমিটার হলেও বে-টার্মিনালের দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এই টার্মিনালের তিনটি টার্মিনালের মধ্যে দুটি বিদেশি কোনো কোম্পানিকে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এবং একটিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ টার্মিনাল নির্মাণ করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত