মানুষ মেরে, পুড়িয়ে ক্ষমতায় আসা যাবে না। সঠিক পথে, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে হবে। এ ছাড়া ক্ষমতায় আসার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য এবং পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
সম্প্রতি রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় বাস ও গাড়িতে দেওয়া আগুনে দগ্ধদের দেখতে এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে গতকাল সোমবার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পরিদর্শনের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বার্ন ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেনসহ অনেক চিকিৎসক। মন্ত্রী বলেন, ‘২৮ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত অবরোধ, মিছিলের নামে বিএনপি ও জামায়াত বিভিন্ন বাসে পেট্রোলবোমা ছুড়েছে। যাতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটে সাতজন এসেছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন এখনো ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা খুবই খারাপ। প্রধানমন্ত্রী তাদের খোঁজখবর রাখছেন। আমরা খুবই দুঃখিত, আর এসব ঘটনার নিন্দা জানাই।’
তিনি বলেন, মিছিল-মিটিং এবং কথা বলার অধিকার সবারই রয়েছে। তাই বলে মানুষকে পুড়িয়ে মারার অধিকার, জানমালের ক্ষতি করার অধিকার কারও নেই।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই অবরোধে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে। শ্রমিকরা কাজে যেতে পারছেন না। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। তারা অনলাইনে ক্লাস করছে। বাবা-মায়েরাও স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। গ্রাম থেকে যেসব কাঁচামাল আসে সেগুলো বহন করতে কষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকে স্বাস্থ্যসেবাও নিতে পারছেন না। মানুষ মেরে, পুড়িয়ে ক্ষমতায় আসা যাবে না। সঠিক পথে, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে হবে। এ ছাড়া ক্ষমতায় আসার কোনো সুযোগ নেই। মানুষের জন্য কাজ করে এবং মানুষের ভালোবাসা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে হবে। আমরা আহ্বান করব, আপনারা নির্বাচনে আসুন, যদি জনগণের ভোট পান, তাহলে ক্ষমতায় আসবেন। মানুষকে পুড়িয়ে, হত্যা করে বাংলাদেশে কেউ ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’
আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় এলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার পদে টিকে থাকতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী রয়েছি ১০ বছর ধরে। এই ১০ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা গত ৪০ বছরেও হয়নি। অনেক পুরস্কার পেয়েছি। যত দুর্যোগই আসুক স্বাস্থ্যসেবায় কোনো ঘাটতি হয়নি। স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন হওয়ায় এখন বাইরের দেশের মানুষ চিকিৎসা নিতে বাংলাদেশে আসছেন। অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী বাংলাদেশের মেডিকেলে পড়ছেন। কাজেই আমাদের পজিশন জনগণ মূল্যায়ন করবে, প্রধানমন্ত্রী মূল্যায়ন করবেন।’
