জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতায় সাইড লাইনে ফিরে যাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে করে টানা পতনের পর গতকাল মঙ্গলবার বীমা খাতে ভর করে পুঁজিবাজারে মূল্যসূচক সামান্য বাড়লেও লেনদেন তলানিতে নেমেছে। গতকাল দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে লেনদেন নেমেছে ৩০০ কোটির ঘরে, যা তিন মাসে সর্বনিম্ন।
কিছুদিনের মতো গতকালও রুগ্্ণ, বন্ধ ও লোকসানি কিছু কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধির ধারা আগের মতোই অব্যাহত ছিল। গতকাল ডিএসইতে বিভিন্ন খাতের ৩১১ কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯২টির, যার প্রায় অর্ধেকই বীমা খাতের কোম্পানি। অথচ এই খাতের তালিকাভুক্ত ৫৭ কোম্পানির মধ্যে ৫৪টির কেনাবেচা হয়েছে। সার্বিক হিসাবে ৫৮ শেয়ার দর হারিয়েছে, অপরিবর্তিত ছিল ১৬১টি শেয়ারের দর। ক্রেতার অভাবে এদিন ৮১ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের কোনো লেনদেন হয়নি।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চলছে। এ সময় রাজধানীতে কিছু কর্মকা- অব্যাহত থাকলেও ঢাকার বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বন্ধই থাকে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ডলার সংকটের এমন সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতায় সার্বিক অর্থনীতি সংকুচিত হয়ে পড়ছে, যার প্রভাব পুঁজিবাজারে দেখা যাচ্ছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর একটি বড় অংশের হয় লোকসানে পড়েছে কিংবা মুনাফা কমে গেছে।
অর্থনীতি ও রাজনীতির এমন সংকটকালে বিনিয়োগকারীদের কেটি বড় অংশই পুঁজির নিরাপত্তায় সাইডলাইনে ফিরে গেছেন। এতে লেনদেন সার্বিকভাবে কমে যাচ্ছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৩৪০ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড, যা গত ১৭ আগস্টের পর সর্বনি¤œ। ওই দিন এই বাজারে ২৯৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বীমা খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধি ছাড়া গত কয়েক দিনের তুলনায় গতকালের লেনদেনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। আবার বীমা খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়লেও দরবৃদ্ধির শীর্ষে এসব শেয়ার ছিল না। অবশ্য কয়েক দিনের তুলনায় প্রকৌশল, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারসংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।
পুঁজিবাজারের এ অবস্থার জন্য রাজনীতি, অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি ফ্লোর প্রাইস এবং বিভিন্ন কোম্পানির মুনাফা কমার তথ্যের প্রভাব আছে বলে মনে করেন বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকর্তারা। তারা জানান, গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে ২৪ কোম্পানির প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ কোম্পানি আয় কমার তথ্য দিয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল পৌনে ১০ শতাংশ হারে দরবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষে ছিল মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ ও খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং নামের কোম্পানি। এ দুই কোম্পানিই অনেক বছর ধরে বন্ধ। কারসাজির চক্র আরও বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারের পাশাপাশি খুলনা প্রিন্টিংয়ের দর কারসাজি করে আসছিল। নতুন করে মেঘনা পেট নিয়ে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গতকাল ৫ শতাংশের ওপর দর বেড়েছে আট শেয়ার ও দুই মিউচুয়াল ফান্ডের। বিপরীতে প্রায় টানা দরবৃদ্ধির পর ৮ শতাংশ দরপতন নিয়ে বিডি মনোস্পুল পেপারের শেয়ার ছিল দরপতনের শীর্ষে। শেয়ারপ্রতি ২৬ টাকা ৮০ পয়সা দর হারিয়ে সর্বশেষ ৩০৪ টাকা ৫০ পয়সায় নেমেছে এই শেয়ারের দর। যদিও আগের বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় চলতি প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে। গতকাল বিডি মনোস্পুল পেপারসহ মোট পাঁচ কোম্পানির শেয়ার ৫ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে।
