গত ২৮ অক্টোবরের সমাবেশের দিন থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ১৭ দিনে রাজনৈতিক কর্মসূচি, শ্রমিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন ঘটনায় সারা দেশে ১৫৪টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৩৭টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ৮টি করে যানবাহন পোড়ানো হয়েছে।
এ সময় দিনের থেকে রাতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বেশি। দিনে ৬১টি এবং রাতে ৯৩টি আগুন দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এসব তথ্য জানিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া শাখার কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, গত ১৭ দিনে ৯৪ বাস, ৩ মাইক্রোবাস, ২ প্রাইভেটকার, ৮ মোটরসাইকেল, ১৩ ট্রাক, ৮ কাভার্ডভ্যান, ১ অ্যাম্বুলেন্স, ২ পিকআপ, ২ সিএনজি, ১ নছিমন, ১ লেগুনা, ফায়ার সার্ভিসের পানিবাহী ১ ও পুলিশের ১টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিএনপির ৫ ও আওয়ামী লীগের ১টি অফিস, পুলিশ বক্স ১, কাউন্সিলর অফিস ১, বিদ্যুৎ অফিস ২, বাস কাউন্টার ১ ও শোরুম ২, রেলওয়ে শ্রমিক অফিস ১, গার্মেন্টস ১, সড়কে টায়ারে আগুনসহ ২ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, ২৮ অক্টোবর ২৯, ২৯ অক্টোবর ১৯, ৩০ অক্টোবর ১, ৩১ অক্টোবর ১১, ১ নভেম্বর ১৪, ২ নভেম্বর ৭, ৪ নভেম্বর ৬, ৫ নভেম্বর ১৩, ৬ নভেম্বর ১৩, ৭ নভেম্বর ২, ৮ নভেম্বর ৯, ৯ নভেম্বর ৭, ১০ নভেম্বর ২, ১১ নভেম্বর ৭, ১২ নভেম্বর ৭ ও ১৩ নভেম্বর ৭টি আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে সহিংসতার ঘটনায় ভাঙচুর, আগুন ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পরদিন বিএনপি ও জামায়াতের ডাকে সারা দেশে হরতাল পালিত হয়। এরপর চার দফা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। এরই মধ্যে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনেও সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া শাখার কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, বিএনপির সমাবেশের দিন থেকে গত সোমবার (১৩ নভেম্বর) পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায়। এছাড়া ২৫টি জেলায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও ৩৯ জেলায় আগুন দেওয়ার কোনো সংবাদ পায়নি ফায়ার সার্ভিস। এছাড়া দেশের সব বিভাগে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করলেও সিলেট বিভাগে কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা সিটিতে ৮২, ঢাকা বিভাগে ৩৪ (সিটি বাদে), চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪, রাজশাহী বিভাগে ৯, বরিশাল বিভাগে ৬, রংপুর বিভাগে ৬, খুলনা বিভাগে ২ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
জেলার মধ্যে গাজীপুরে সবচেয়ে বেশি ১৫টি আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরপরেই আছে চট্টগ্রাম, ৮টি। এছাড়া রাজধানীর পাশের নারায়ণগঞ্জে ৬টি, বগুড়ায় ৫টি, মানিকগঞ্জে ৪টি, ফরিদপুরে ৪টি, লালমনিরহাটে ৪টি করে অগ্নিসংযোগের তথ্য পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
তালহা বিন জসিম জানান, দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুন নেভাতে গিয়ে সারা দেশে ৫ জন আহত হয়েছেন (ফায়ার সার্ভিসের ২ সদস্য ও ৩ জন সাধারণ নাগরিক)। তবে কারও মৃত্যু হয়নি। আহতদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা ও একজন চালক রয়েছেন। ২৮ অক্টোবর রাজধানীর শাহজাহানপুরে অগ্নিনির্বাপণ করার সময় তারা উচ্ছৃঙ্খল জনতার মারধরের শিকার হন। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের একটি পানিবাহী গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
