তফসিল ঘোষণার পর বিশেষ প্রস্তুতি ডিএমপির

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:১০ এএম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা ও নাশকতা রোধ এবং মোকাবিলা করার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ডিএমপির সদর দপ্তরে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মিটিংয়ে যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

ডিএমপি সূত্র জানায়, চলমান অবরোধে আগের মতোই রাজধানী ঢাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে তফসিল ঘোষণা হলে সন্ধ্যায় প্রয়োজনে আরও বেশি ফোর্স মোতায়েন করার নির্দেশনা দেন; বিশেষ করে যেসব এলাকায় সহিংসতা হতে পারে, সেই সব এলাকায় পোশাকধারী পুলিশি টহলের পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি করার নির্দেশনা দেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। তাই নিরাপত্তা বিধানে ও নাশকতা-সহিংসতা ঠেকাতে তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। আর এগুলো প্রতিরোধে তারা বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে থাকেন। কারণ তাদের মূল লক্ষ্য থাকবে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। এ জন্য আইনানুগভাবে সবকিছুই করা হবে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ডিএমপির সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ঢাকার ৫০ থানার ওসিদের নিয়ে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনার পুরো সময়টাতেই বিএনপির চলমান আন্দোলন, অবরোধ ও তফসিলের পর নাশকতা এবং সহিংসতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে তা নিয়ে আলোচনা হয়।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় বাসে আগুন ঠেকানোকে জোর দিয়ে প্রতিটি ঘটনায় সরাসরি জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দিয়েছেন। কোনো অবস্থাতেই যেন চলমান সহিংসতার পরিধি আর না বাড়ে, সে জন্য সতর্ক থাকতে বলেছেন। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, সহিংসতার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে বেশি প্রচারণা পেতে পারে। এ জন্য সহিংসতার পরিমাণ কমিয়ে আনার বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে বলেছেন।

আর নাশকতা প্রতিরোধে প্রধান সড়কে ড্রোন ক্যামেরা এবং ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দূরপাল্লার বাসে সিসিটিভি বসানোর নির্দেশনা প্রদান করা যায় কি না, সে বিষয়ে চিন্তা করছে পুলিশ। যেন বাসে আগুনের ঘটনা কমানো যায়। সিসিটিভি ক্যামেরা বসালে নাশকতাকারীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে মনে করেন কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, এবার নির্বাচনের আগে বেশি সহিংসতা হয়েছে রাজধানী ঢাকা শহরে। ঢাকার বাইরে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়ায় সহিংসতা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় ৬২টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর বিভাগে ১৫, ওয়ারী বিভাগে ১৩, মতিঝিল বিভাগে ১০, তেজগাঁও বিভাগে ৮, রমনা বিভাগে ৬, গুলশান বিভাগে ৫, লালবাগে ৩ ও উত্তরায় ২টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া থানা এলাকা হিসেবে যাত্রাবাড়ী এলাকায় সবচেয়ে বেশি ৯টি গাড়ি পোড়ানো হয়েছে।

ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, ডিএমপি কমিশনার আইনের মধ্যে থেকে সহিংসতা ঠেকানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কোনো অবস্থাতেই পুলিশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক প্রচারণা হয়, এমন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা এবং গুলি চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণগ্রেপ্তার না করে সুনির্দিষ্টভাবে নাশকতার সঙ্গে সম্পৃক্তদের গ্রেপ্তারে জোর দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

গতকাল দুপুরে ডিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনাদের মতো আমরাও শুনেছি শিগগিরই তফসিল ঘোষণা হবে। তফসিল ঘোষণার পর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে তারা আমাদের যে দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন, আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত