নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে পিচ বদল করেছে ভারত। পূর্বনির্ধারিত পিচে খেলা না হয়ে ম্যাচ হবে অন্য পিচে। বৃটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। সেখানে আরও বলা হয়, ভারত যদি ফাইনালে খেলে তাহলে সে ম্যাচেও পিচ বদলানো হতে পারে। এমন সংবাদের পর তা নিয়ে বেশ সমালোচনা-আলোচনা হয়। তবে বিষয়টি অন্য দলগুলোর জন্য চিন্তার কারণ।
আগামীকাল সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে এসে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। অজিরা অবশ্য এসব নিয়ে ভাবছেন না। আইসিসির ওপরই ভরসা রাখার কথা বলেছেন কামিন্স, ‘অবশ্যই আইসিসির নিরপেক্ষ পিচ কিউরেটর আছে। তারা এমন কিছুই নিশ্চিত করবে, যেটা দুই দলের জন্যেই ভালো হবে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তেমন সমস্যা দেখিনি।’
সংবাদ সম্মেলনে কামিন্স একটি সুখবর দিয়ে গেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল খেলবেন সেমিফাইনালে। যদিও গতকাল অনুশীলনে ম্যাক্সওয়েলকে দেখে অনেকেই বুঝে নিয়েছিলেন তাকে দেখা যাবে কলকাতায়। গত সপ্তাহে বিশ্বকাপের লিগ পর্বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পায়ে ক্র্যাম্প (মাংশপেশিতে টান) নিয়ে মহাকাব্যিক দ্বিশতক করেছিলেন ম্যাক্সওয়েল। এরপর বিশ্রাম নিলেও ৩৫ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা অনুভব করছিলেন বলে জানিয়েছে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড। তবে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমটি এ–ও জানিয়েছে যে স্ক্যানের পরই বোঝা গেছে, ম্যাক্সওয়েল সেমিফাইনাল খেলার জন্য ফিট।
আজ সংবাদ সম্মেলনে কামিন্সও সে কথাই বললেন, ‘ম্যাক্সি (ম্যাক্সওয়েল) ভালো আছে, খেলার জন্য প্রস্তুত। এটা (স্ক্যান) সতর্কতা হিসেবে করা হয়েছিল। গতকালও সে ব্যথা অনুভব করেছে। কোনো সমস্যা আছে কি না, সেটা জানতেই স্ক্যান করানো হয়েছিল। কারণ, আমরা কিসের বিরুদ্ধে লড়াই করছি, সেটা জানি। সৌভাগ্যজনকভাবে সে ফিট হয়ে উঠেছে।’
ম্যাক্সওয়েল সর্বশেষ মাঠে নেমেছেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে তাঁর দ্বিশতক এখনো অনেকের চোখে ভেসে আছে। ২৯১ রান তাড়া করতে নেমে ৯১ রানে ৭ উইকেট হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ম্যাক্সওয়েল এই পরিস্থিতিতে দ্বিশতক করে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন।
এমন একটি ইনিংস সেমিফাইনালের প্রেরণা কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে কামিন্স বলেছেন, ‘অবশ্যই। আমি মনে করি, এটা যেকোনো মুহূর্তের (প্রেরণা)। সর্বশেষ ম্যাচে (বাংলাদেশের বিপক্ষে) মিচেল মার্শের ১৭০ রানের আশপাশের ইনিংসটিও একই রকম। তবে ম্যাক্সওয়েলের ইনিংসটি আলাদা কিছু। কারণ, ম্যাচ যখন প্রায় মুঠো থেকে ফসকে গেছে, তখন আমাদের একজন দাঁড়িয়ে জয়ের রাস্তা বের করেছে। এতে দলের সামর্থ্য আরও বেড়েছে। কারণ, দলে ম্যাক্সওয়েলের মতো কেউ থাকলে যেকোনো জায়গা থেকে ম্যাচ জেতা যাবে-এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। সে একজন মহাতারকা। যেকোনো অবস্থা থেকে ম্যাচ জেতাতে পারে। আমি খুশি যে সে আমাদের দলের খেলোয়াড়।’
